কলকাতা: দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দু’ম্যাচে জয় এনে দিয়েছিলেন ক্লাবকে। স্বভাবতই নতুন কোচকে পেয়ে প্রথম ডার্বিতে হারের বদলা নিতে মরিয়া ছিল মোহনবাগান। কিন্তু ক্লাব বদলালেও কলকাতা ডার্বিতে নিজের ট্র্যাক রেকর্ড বদলাতে পারলেন না খালিদ জামিল। অন্যদিকে ১৫ বছর আই লিগের দুটি ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের বিরুদ্ধে দলকে মধুর জয় এনে দিলেন ইস্টবেঙ্গলের স্প্যানিশ কোচ আলেজান্দ্রো। প্রথম ডার্বিতে ৩-২ গোলে জয়ের পর রবিবাসরীয় ফিরতি লেগে মোহনবাগানকে ২-০ গোলে হারাল ইস্টবেঙ্গল।

দুই অর্ধে লাল-হলুদের হয়ে এদিন গোলদুটি করলেন জেইম কোলাডো ও জবি জাস্টিন। গত ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় মনোজ মহম্মদের পরিবর্তে এদিন ইস্টবেঙ্গলের লেফট ব্যাকে শুরু করেন কমলপ্রীত সিং। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে ইউটাকে সরিয়ে বাগান একাদশে শুরু করেন পিন্টু মাহাতা। ফিরতি ডার্বির শুরুটা তেড়েফুঁড়ে করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঝমাঠে লাল-হলুদের কাছে ক্রমশ পিছু হটতে থাকে বাগান। উইং ধরে সনি নর্ডির দৌড় কয়েকবার বিভ্রান্ত করলেও চুলোভার কাছে বারবার আটকে গেলেন হাইতিয়ান ম্যাজিশিয়ন। সেইসঙ্গে আটকে গেল মোহনবাগানও।

৫৩ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময়টা মাঝমাঠে দাপটের সঙ্গে খেলে গেলেন কোলাডো-ডিকারা। আলট্রা ডিফেন্সিভ স্ক্রিন হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি আক্রমণভাগকে সাহায্য করার জন্য বাড়তি ওয়ার্কলোড নিলেন কাশিম আইদারা। মাঝমাঠে ইতিবাচক ফুটবলের ফসল তুলে ৩৫ মিনিটে প্রথম গোলের সন্ধান পেয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বক্সের মধ্যে এক্ষেত্রে কোলাডোর উদ্দেশ্যে ঠিকানা লেখা মাইনাস রাখেন নতুন হেয়ারস্টাইলে আত্মপ্রকাশ করা কেরল স্ট্রাইকার জবি জাস্টিন। তাঁর অ্যাসিস্ট দুরন্তভাবে কাজে লাগিয়ে বল তিনকাঠিতে রাখেন লাল-হলুদের স্প্যানিশ মিডিও।

এক গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করে সবুজ-মেরুন। ৫৩ মিনিটে কর্ণার থেকে কিংসলের হেড পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে ফিরতি বল জালে ঠেলেন দিপান্দা ডিকা। কিন্তু গোলে ঢোকার মুখে বল  ক্যালডেইরার অফ সাইডের কারণে বাতিল হয় সেই গোল। এই সময় লাল-হলুদ ডিফেন্সকে কিছুটা চাপে ফেলার চেষ্টা করলেও বোরহা-অ্যাকোস্টাদের টপকে কাজের কাজ করে উঠতে পারেনি সবুজ-মেরুন স্ট্রাইকাররা।

উলটে ৭৫ মিনিটে সেটপিস থেকে দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচে পুরোপুরি কব্জা করে নেয় পদ্মাপাড়ের ক্লাব। অধিনায়ক লালরিনডিকার পিন পয়েন্ট কর্ণার থেকে দুরন্ত হেডারে লিগের অষ্টম গোলটি তুলে নেন জবি। ওখানেই নিশ্চিত হয়ে যায় ইস্টবেঙ্গলের জয়। অ্যাসিস্টের পাশাপাশি গোল করে ম্যাচের সেরা জবিই। আর ১৫ বছর বাদে আই লিগের দুটি ডার্বিতেই বাগানকে হারিয়ে ফের চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে ফিরে এল আলেজান্দ্রোর দল। ১৩ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে এই মুহূর্তে চার নম্বরে তারা।