কলকাতা: মোহনবাগান ও পিয়ারলেসকে হারানো দল নিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর স্বপ্ন দেখেছিল মহামেডান৷ কিন্তু লড়াই করলেও শেষরক্ষা হল না সাদা-কালো শিবিরের৷ ফলে ৩৮ বছর পর মহমেডান স্পোর্টিং-এর কলকাতা লিগ জয়ের স্বপ্ন এখনও অধরা৷ মহামেডানকে হারিয়ে লিগ জয়ের আরও কাছে পৌঁছে গেল লাল-হলুদ৷

বৃহস্পতিবার ‘মিনি ডার্বি’ জিতলেই লিগ জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলত পারত দীপেন্দু বিশ্বাসের ছেলেরা৷ কিন্তু বৃষ্টিস্নাত যুবভারতীতে ২-৩ গোলে হেরে ইস্টবেঙ্গলকে লিগ জয়ের আরও কাছে পৌঁছে দিল মহামেডান৷ ১১ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শেষ করল সাদা-কালো৷ আর ১০ ম্যাচে ২০ নিয়ে লিগ জয়ের দোরগোর পৌঁছে গেল আলেয়ান্দ্রো মেনেন্দেজের ইস্টবেঙ্গল৷ লিগ জয়ের তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিয়ারলেস। ৯ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৭৷

আগের দু’টি ম্যাচে মোহনবাগান ও পিয়ারলেসকে হারিয়ে লিগ জয়ের গন্ধ পেয়েছিল মহমেডান৷ এদিন জিতলে লিগ জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যেত সাদা-কালো৷ আর লিগের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে ইস্টবেঙ্গলকে এদিন জিততেই হত। এ কথা মাথায় রেখে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে লাল-হলুদ৷ ১২ মিনিটে পিন্টু মাহাতোর গোলে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন। কমলপ্রীতের অসাধারণ সেন্টার থেকে জোরাল হেডারে গোল করেন পিন্টু৷ এই লিড অবশ্য বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি লাল-হলুদ৷ ওমোলজার ফ্রি-কিক বিপন্মুক্ত করতে গিয়ে বোরহার আত্মঘাতী হেড লাল-হলুদের জালে জড়িয়ে যায়। তবে বিরতির ঠিক আগে অর্থাৎ ৪৪ মিনিটে কোলাডো পেনাল্টি থেকে ইস্টবেঙ্গলকে ফের এগিয়ে দেন। ‘হ্যান্ড’ বল করায় লাল-কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মহামেডানের সইফুল।

দ্বিতীয়ার্থ ১০ জনে খেলে সাদা-কালো শিবির। সেই সুযোগ নিয়ে ৫৮ মিনিটে ৩-১ করেন মার্কোস। আর ৮৩ মিনিটে মহমেডানের কুয়াসি ব্যবধান কমান। শেষ পর্যন্ত মহমেডানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে খেতাবি লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল৷ সেই সঙ্গে প্রায় চার দশক পর সাদা-কালো শিবিরের লিগ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়৷ প্রথম একাদশে এদিন পাঁচটি পরিবর্তন করেছিলেন লাল-হলুদ কোচ আলেয়ান্দ্রো। অন্যদিকে মোহনবাগান ও পিয়ারলেসকে হারানো দল নিয়েই এদিন মাঠে নামান মহমেডান কোচ শাহিদ রামন।