ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: বর্ষণসিক্ত কলকাতা ময়দান আর ফুটবল যেন একে অপরকে পরিপূর্ণ করে। মঙ্গলবার বিকেলে ইস্টবেঙ্গল মাঠে দেখা গেল সেই পরিচিত দৃশ্য। বৃষ্টিভেজা ইস্টবেঙ্গল মাঠ যদি ক্যানভাস হয়, তাহলে পাবলো পিকাসো হয়ে উঠলেন বিদ্যাসাগর সিং, পিন্টু মাহাতারা। ফলস্বরূপ ডুরান্ডের দ্বিতীয় ম্যাচে বিদেশিহীন জামশেদপুর এফসি’কে হাফ-ডজন গোলের মালা পরাল লাল-হলুদ।

প্রথম ম্যাচে দু’গোলে জয় এলেও প্রথম গোল এসেছিল ম্যাচের ৪০ মিনিট পরে। দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাভাবিক ভাবেই প্রথম একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটেন লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচ আলেজান্দ্রো। ফলও মিলে যায় হাতেনাতে।

ম্যাচের ৩ মিনিটে বক্সের মধ্যে বল পায়ে আগুয়ান হাইমে কোলাডোকে আটকাতে গিয়ে ফাউলের শরণাপন্ন হতে হয় বিপক্ষ গোলরক্ষককে। সঙ্গত কারণে পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। স্পট-কিক থেকে বল জালে রাখেন কোলাডোই। মিনিট চারেক পর অর্থাৎ ৭ মিনিটে দুরন্ত প্লেসিংয়ে ফের বল জালে রাখেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। ফলে প্রথম সাত মিনিটেই ২-০ এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল৷

তারপর অবশ্য লাল-হলুদের জন্য খারাপ খবর নিয়ে আসে৷ কাঁধের চোটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কোলাডো। তবে গোল করা থেকে আটকানো যায়নি আলেজান্দ্রোর ছেলেদের। ৩১ মিনিটে ব্রেন্ডনের ঠিকানা লেখা থ্রু ধরে স্কোরলাইন ৩-০ করেন পিন্টু। তখনই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। হাফ-টাইমের আগে তিন গোল হজম করে জামশেদপুর এফসি৷

বিরতির পর ৭৪ ও ৭৯ মিনিটে জোড়া গোল করে লাল-হলুদকে ৫-০ এগিয়ে দেন বিদ্যাসাগর সিং। প্রথম ম্যাচে পরিবর্ত হিসেবে নেমে গোল পেয়েছিলেন বিদ্যাসাগর। তাই এদিন আলেজান্দ্রোর পরিকল্পনায় শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন তিনি৷ অতিরিক্ত সময় (৯২ মিনিট) বিদ্যাসাগরের পাস থেকেই দলের হয়ে ষষ্ঠ তথা ম্যাচের শেষ গোলটি করেন পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা হাওকিপ।