কলকাতা: ঘরের মাঠে আই লিগের শেষ ম্যাচ। তাই খানিকটা দশমীর আবহেই সোমবার আইজলের বিরুদ্ধে  মাঠে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। শেষ ল্যাপে চ্যাম্পিয়নশিপের ইঁদুরদৌড়ে এসে কাজ করছে নানা পারমুটেশন-কম্বিনেশন। চোখে ১৬ বছরের অধরা আই লিগ জয়ের স্বপ্ন। তাই সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেও যুবভারতীর গ্যালারি ভরিয়েছিলেন ১৬,০০০ দর্শক। পাশাপাশি শেষ হোম ম্যাচে গ্যালারি টিফোয় ভরে যাক, চেয়েছিলেন কোয়েস কর্তারা। কথা রাখলেন সমর্থকেরা। কিন্তু সমর্থকদের প্রত্যাশাপূরণে ব্যর্থ হয়ে ফের ইস্টবেঙ্গলের আই লিগ জয়ের স্বপ্নে বেজে গেল বিসর্জনের সুর।

গুরুত্বপূর্ণ হোম ম্যাচে আইজল এফসি’র কাছে এদিন আটকে গেল ইস্টবেঙ্গল। সেইসঙ্গে অঙ্কের বিচারে ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা টিমটিম করে জ্বললেও লেসলি ক্লডিয়াস সরনির ক্লাবে আই লিগ ঢোকার সম্ভাবনা যে ফের চলে গেল অথৈ জলে, তা বলাই যায়। পাহাড়ি দল আইজলের বিরুদ্ধে এদিন দুটি পরিবর্তন আনেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আলেজান্দ্রো। কার্ড সমস্যায় অ্যাকোস্টার বদলে বোরহার সঙ্গে শুরু করেন সালামরঞ্জন। অন্যদিকে ডোভালের জায়গায় স্ট্যানলি রোজারিওর দলের বিরুদ্ধে কোলাডোকে প্রথম একাদশে নিয়ে আসেন লাল-হলুদ কোচ।

গতিকে অস্ত্র করে ইস্টবেঙ্গলের পাসিং ফুটবলের বিরুদ্ধে এদিন প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলে গেলেন ক্রোমা, ডোডোজরা। ফলও মিলে গেল হাতে-নাতে। ২৩ মিনিটে দুই লাল-হলুদ ডিফেন্ডারের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে পাহাড়ি দলটিকে এগিয়ে দেন আইভরি কোস্ট স্ট্রাইকার ডোডোজ। গোল খেয়ে পাসিং ফুটবলকে অস্ত্র করে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু আইজলের দীর্ঘকায় ডিফেন্ডারদের কাছে পেনিট্রেশনে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন কোলাডো-জবিরা। প্রথমার্ধ ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকে শেষ করতেই গ্যালারিতে স্বপ্নশেষের চাপা আর্তনাদ।

তবু পিছিয়ে পড়া ইস্টবেঙ্গলে ভরসা ছিল সমর্থকদের। গোল শোধের মরিয়া চেষ্টায় দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম কোয়ার্টারেই জোড়া পরিবর্তন লাল-হলুদ কোচের। দানমাওয়াইয়ার বদলে ডোভালে এবং মনোজের পরিবর্তে সামাদকে নামান আলেজান্দ্রো। দুই সুপার সাবের হাত ধরেই কার্যত সমতায় ফেরে লাল-হলুদ। ডানদিকে বল ধরে তা ওভারল্যাপে উঠে যাওয়া সামদকে বাড়িয়ে দেন ডোভালে। রাইট ব্যাকের পিন পয়েন্ট ক্রস থেকে স্কোরলাইন ১-১ করেন এনরিকে।

এরপর ৭০ মিনিটে ফাউল করার পর মাঠে বচসায় জড়িয়ে পড়ে জোড়া হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আইজলের বিদেশি ওমোলজা। শেষ কুড়ি মিনিট গরের মাঠে দশজনের আইজলকে পেয়ে ছিঁড়ে খেল ইস্টবেঙ্গল। প্রত্যাশামত আইজল ডিফেন্সে মুহুর্মুহু আছড়ে পড়ল বল। কিন্তু ফিনিশ করতে পারলেন না ডোভালে-এনরিকে-জবিরা। ইনজুরি সময়ে একটি জবির একটি সুবর্ণ সুযোগ পোস্টে লাগলে ওখানেই শেষ হয়ে যায় লাল-হলুদের তিন পয়েন্টের স্বপ্ন। লিগ টেবিলের যা অবস্থান তাতে বাকি দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ