স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: শনিবার এলাকায় পা রাখছেন পূর্ব বর্ধমান লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ও জেলার ভূমিপুত্র পরেশচন্দ্র দাস৷ বর্ধমান পূর্ব লোকসভা আসনে তাঁর নাম ঘোষণার পর থেকেই রীতিমত উজ্জীবিত গেরুয়া শিবির। শনিবার কলকাতায় দলীয় বৈঠক সেরেই তিনি সরাসরি পৌঁছে যাবেন তাঁর লোকসভা এলাকা কালনা শহরে।

সেখানে দলীয় প্রথম বৈঠক সেরেই তিনি যাবেন কৈচড়ে। যেখানে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন পরেশবাবুর মা আশালতা দাস। রবিবার থেকে তিনি কোমর বেঁধেই ভোটের লড়াইয়ে নামতে চলেছেন বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিজেপির এই প্রার্থী পরেশবাবু কাটোয়ার মাথরুন নবীনচন্দ্র বিদ্যায়তনের ছাত্র ছিলেন। কাটোয়া কলেজ থেকে ইতিহাসে অনার্স করার পর দিল্লীর জওহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটি থেকে এম এ এবং এম ফিল করেন। এরপর বিদেশ থেকে অর্থনীতি নিয়ে দীর্ঘ পড়াশোনা করেন। ১৯৮৭ সালে আইএএস পরীক্ষা দিয়ে ১৯৮৮ ব্যাচে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরীতে যোগ দেন। ৩১ বছর দেশের ১৮টি মন্ত্রকে চাকরি জীবন পার করে ২০১৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন সামাজিক ন্যায় এবং আধিকারিক মন্ত্রণালয় থেকে।

আরও পড়ুন : রাহুল গান্ধীর সভা বানচাল করতে চাইছে তৃণমূল, আশংকায় কংগ্রেস

এরপরেই কৈলাশ বিজয়বর্গীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন ২০১৮ সালের জানুয়ারীতে কালনায় এক অনুষ্ঠানে। তারপর থেকে বর্ধমান পূর্ব জেলায় সংগঠনের কাজ করেছেন। কাজ করেছেন আরএসএসেরও।

কাটোয়া মহকুমার মঙ্গলকোটের কৈচড় গ্রামের বাসিন্দা পরেশবাবুর শিশুকাল থেকে কলেজ পর্যন্ত কেটেছে রীতিমত আর্থিক অনটনের মধ্যেই। কার্যত গরীব কথার অর্থ তিনি হাড়েহাড়েই জানেন। তাই ভোটের লড়াইয়ে নেমে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য বেকারত্ব হঠাও, গরীবী হঠাও।

কার্যত মোদিজীর অন্ধ ভক্ত পরেশবাবু জানিয়েছেন মোদিজীই তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছেন ২০১৪-এর পর থেকে। একইসঙ্গে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের লেখা একাত্ম মানববাদ তাঁকে আরও অনুপ্রাণিত করে। পরেশবাবু জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরেই তিনি ভারত সরকারের অর্থনীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর প্রথম কাজ কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পকে মানুষের কাছে পৌঁছানো। বেকারত্ব দূর করা। আর্থিক ও সামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়াদের উন্নতি ঘটানো।

আরও পড়ুন : কাটমানির বদলে কোটি টাকার গাঁজা ছেড়েছে বিজেপি সরকার: সুবল ভৌমিক

প্রসঙ্গত, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কাটোয়ায় তাঁকে হেনস্থা করা হয়। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর আছে। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে এবার আধা সামরিকবাহিনী থাকবে। মানুষ প্রতিরোধ, প্রতিবাদ করবে। বাংলায় আমলারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ১৯৮৯ সালে মুসৌরীতে একসঙ্গে তিনি ট্রেনিং করেছেন। ওঁকে ভালভাবে জানি। বাংলায় ইনষ্টিটিউশনাল ডিগ্রেডেশন করার চেষ্টা হচ্ছে। ১৯৯৩ -১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বাংলায় আমলা হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন,সবাই পরাধীনভাবে কাজ করেন না। অনেকেই স্বাধীনভাবে কাজ করেন।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে পরেশবাবু জানিয়েছেন, তাঁর প্রতিপক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসের সুনীল মণ্ডল এবং সিপিএমের ঈশ্বরচন্দ্র দাসকে তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বলেই মনে করছেন। কিন্তু তিনিও চেষ্টা চালাবেন। তাই ছোট মিটিং, মিছিল, বাড়ির দরজায় দরজায় ভোটের জন্য প্রার্থনার পাশাপাশি তিনি বড় বড় বেশ কয়েকটি মিটিং করবেন।