সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বর্ষা দেরি করার ফল ভুগছে মধ্য ও পূর্ব ভারত। চরম গরমে কাহিল অবস্থা ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ জেলাতেই। এমনিতেই মধ্য ভারতে বর্ষা একটু দেরীতে প্রবেশ করে। এই বছর কেরালায় বর্ষা দেরীর করার জেরে সূর্যের তাপ জালিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। অবস্থা খারাপ পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও। টানা গরম চলছে সেখানে। সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে হাওয়া অফিসেরত তরফে।

দিল্লির মৌসোম ভবনের রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান , উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশে দীর্ঘ দিন ধরে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রির উপরেই রয়েছে। তাপমাত্রা নামার কোনও রকম লক্ষন সেখানে দেখা যাচ্ছে না। বিদর্ভ ও মধ্যপ্রদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৫ ডিগ্রি বা তারও বেশী থাকছে। কর্ণাটক, মধ্য মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, দিল্লি, চণ্ডীগড় , হিমাচলপ্রদেশ, কোঙ্কন, গোয়া, কচ্ছ, সৌরাষ্ট্র, তেলেঙ্গানায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে তিন থেকে পাঁচ ডিগ্রি করে বেশী রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশী গরম ছিল বিদর্ভের ব্রহ্মপুরীতে, ৪৮.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাকি রাজ্যগুলিতে তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে ৪২ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। আগামী ৪৮ ঘণ্টাতেও প্রচণ্ড লু বওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিদর্ভ , মধ্যপ্রদেশ, দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, দক্ষিণ হরিয়ানা , পাঞ্জাব , ছত্তিসগড়, তেলেঙ্গানায়।

এদিকে বর্ষার ক্রমে দেরী হচ্ছে দেশের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে। পয়লা জুনের বদলে দিল্লি বলেছিল ৬ জুন কেরালায় আসবে বর্ষা। সেই ডেডলাইন পেরিয়ে গিয়েছে। আপাতত মৌসম ভবন জানাচ্ছে, ৮ জুন অর্থাৎ শনিবার তা কেরলে প্রবেশ করতে পারে। সবই এল নিনোর জের বলে মনে করছেন আবহবিদরা। আগেই জানানো হয়েছিল এর জেরে খরা হতে পারে। পরিস্থিতি যেন সেই দিকেই এগোচ্ছে। কারন ইতিমধ্যেই বেসরকারি সংস্থা স্কাইমেট জানিয়ে দিয়েছে, বিগত ৬৫ বছর এই নিয়ে দ্বিতীয় বার প্রায় খরা পরিস্থিতির মুখ দেখতে চলেছে ভারত৷ বলা হচ্ছে ২০১৯ সাল প্রাক বর্ষায় দ্বিতীয় শুষ্ক বছর৷

রেকর্ড বলছে উত্তর পশ্চিম ভারতে ৩০ শতাংশ ঘাটতি, মধ্য ভারতে ১৮ শতাংশ, পূর্ব-উত্তর পূর্ব ভারতে ১৪ শতাংশ ও দক্ষিণ পেনিনসুলাতে ৪৭ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। তিন মাসের প্রাক বর্ষার মরসুম, অর্থাৎ মার্চ, এপ্রিল ও মে মাস মিলিয়ে গড়ে ২৫ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে৷ এই বৃষ্টি আমের ফলনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মত রাজ্যের জন্য বিশেষ করে প্রাক বর্ষার বৃষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম৷

যদিও নির্ধারিত সময় মেনে গত ১৮ মে নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছে যায় বর্ষা। তার পর পথে থমকে দাঁড়িয়েছিল সে। গত ৩-৪ দিন হল আবার গতিপ্রাপ্ত হয়েছে সে। এই মুহূর্তে সমগ্র মালদ্বীপে বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। বর্ষা আসার আগের ৪৮ ঘণ্টায় কেরলে এখন প্রাক বর্ষার পরিস্থিতি। বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হচ্ছে।

সাধারণত কেরলে বর্ষা আসে ১ জুন, এ বার আসছে ৮ জুন। মানে এক সপ্তাহের দেরিতে বর্ষা ঢুকছে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে এ রাজ্যে কবে বর্ষার পদার্পণ হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা দু’তরফে ঢোকে। ৫ জুন উত্তরবঙ্গে বর্ষা পদার্পণ করার দিন। এর তিন দিন পর, ৮ জুন কলকাতা-তথা দক্ষিণবঙ্গে পৌঁছে যায় বর্ষা। বর্ষা কে নির্ধারিত সময় মানবে না সেটা তো নিশ্চিত। গত দু’দিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির ফলে অনেকের মনে হয়েছে বর্ষা হয়তো কাছাকাছি এসে গিয়েছে। কিন্তু বর্ষা আদতে অনেক দূরে।

বেসরকারি সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা জানাচ্ছে, এ বার উত্তরবঙ্গে বর্ষা পৌঁছোতে পারে ১৩ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে। অন্যদিকে ১৮ থেকে ২১ জুনের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে ঢুকতে পারে বর্ষা। যদিও দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা পৌঁছনোর ক্ষেত্রে ১৮ জুনের ওপরেই বেশি ভরসা করছে এই সংস্থা।

অপরদিকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর বাংলাদেশ এবং ঝাড়খণ্ড লাগোয়া ঘূর্ণাবর্ত সরে গিয়েছে উত্তরপ্রদেশের দিকে। নিম্নচাপ অক্ষরেখাও আর নেই। ফলে শুক্রবার কলকাতায় বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। কিছু কিছু জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

তবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বেলায় ভোগাতে পারে আর্দ্রতা। শুক্রবার আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৪ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৬৫ শতাংশ। শহরের আকাশে সকালে মেঘের পরিমাণ ১০০ শতাংশথেকে কমে ৯১ শতাংশ হয়েছে। সকালের কলকাতায় শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, থেকে বেড়ে ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে, যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি বেশি। সর্বোচ্চ ৩১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বেড়ে ৩৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে যা স্বাভাবিকের থেকে যা এক ডিগ্রি কম। বৃষ্টি হয়নি।