সম্বলপুর: বুধবার বিকেল পাঁচটা বেজে আটচল্লিশ মিনিট৷ আচমকা কেঁপে উঠল পশ্চিম ওডিশা৷ রিপোর্ট বলছে পশ্চিম ওডিশার সম্বলপুর, কুচিন্দা, দেওগড়, রউরকেল্লা, বোনাই ও ঝাড়সুগুডায় এই কম্পন অনুভূত হয়৷

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর ওই এলাকার বাসিন্দারা তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেন৷ তবে কম্পন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি৷ কয়েক সেকেণ্ড ধরে এই কম্পন অনুভব করা যায়৷ তবে আতংক ছড়িয়ে পড়ে৷ স্থানীয় বাসিন্দারা বেরিয়ে আসেন বাড়ি ছেড়ে৷

তবে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই৷ ওডিশা টিভিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঝাড়সুগুডার এক বাসিন্দা লিজালিন নায়েক বলেন গোটা বাড়িটা কাঁপতে শুরু করে৷ আমার বাড়ির সবাই বাইরে বেরিয়ে আসেন৷

আরও পড়ুন : ঝড় জল নেই , ফাঁকি দিয়ে পালাচ্ছে ঝাঁকের ইলিশ

এরই মধ্যে ওডিশা জুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে স্থানীয় আবহাওয়া দফতর৷ ওডিশার ছটি জেলায় এই বৃষ্টি চলবে বলে জানানো হয়েছে৷ আঙ্গুল, ঢেঙ্কানল, জাজপুর, কেন্দাপাড়া, বালাসোর ও ভদ্রকে বৃষ্টি হবে৷

মঙ্গলবারই ফের কেঁপে ওঠে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। মঙ্গলবার ভোরের দিকে ভারতের কেন্দ্রশাসিত ওই এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ওই কম্পনের তীব্রতা ছিল ৪.৯। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায় যে মঙ্গলবার ভোর চারটের কিছু সময় আগে আন্দামানে ভূমিকম্প হয়। স্থানীয়দের মতে সময়টি ছিল ভোর তিনটে বেজে ৪৯ মিনিট।

এই মাসের প্রথম দিকে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে গুজরাত। গুজরাতের উত্তর দিকে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৩। গুজরাতের পালানপুরের কাছেই এই কম্পনের উৎসস্থল।

আরও পড়ুন : আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল হাওয়া অফিস

পালানপুর থেকে ৩১ কিলোমিটার দূরে কম্পনের উৎসস্থলের গভীরতা ছিল ৩.১ কিলোমিটার। এমনটাই জানানো হয় গুজরাতের গান্ধীনগরের ‘সিসমোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ থেকে। মাউন্ট আবুতেও এই কম্পন অনুভূত হয় বলে জানা যায়৷ কম্পন টের পান আমেদাবাদ, বনস্কন্ঠ ও আরাবল্লীর বাসিন্দারাও। তবে ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর মেলেনি৷

তবে গুজরাতের ভূমিকম্প প্রথমবার নয়। এর আগেও একাধিকবার কেঁপে উঠেছে ভারতের পশ্চিমের এই রাজ্য। ২০০১ সালে ২৬ জানুয়ারি ভূজে ভূমিকম্পে ২০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। সেই ভূমিকম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৭। অন্তত ৪ লক্ষ বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন প্রায় ২ লক্ষ মানুষ। তার মধ্যে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছিল ভাচাউ। তার আগেও বেশ কয়েকবার এই এলাকায় বড় কম্পন অনুভূত হয়েছে।