কলকাতা: ভূমিকম্পে দুলে উঠল বাংলার মাটি৷ রবিবার পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে কম্পন অনুভূত হয়৷ কম্পনের মাত্রা ছিল, ৪.৮৷

জানা গিয়েছে, সকাল ১০টা ৩৯ মিনিট নাগাদ ভূমিকম্প হয়৷ কম্পনের কেন্দ্রস্থল বাঁকুড়া৷ মাটি থেকে ১০ কিমি গভীরে কম্পনের উৎপত্তি৷ বাঁকুড়া ছাড়া পার্শ্ববর্তী বীরভূম, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং মালদহতে কম্পন টের পান সাধারণ মানুষ৷ এখনও অবধি কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি৷ তবে ভূমিকম্পের খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে৷ ভয়ে অনেকে বাড়ির বাইরে নেমে আসেন৷

দক্ষিণবঙ্গের চার জেলার মধ্যে বাঁকুড়ায় বেশ ভালোভাবে টের পাওয়া গিয়েছে কম্পন। বেশ কয়েক সেকেন্ড কম্পন অনুভূত হয়েছে প্রায় সব জেলাতেই। উত্তরবঙ্গের মালদহ জেলাতে কেঁপে উঠেছে মাটি। আপাতত কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ওই চার জেলা সহ রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল এবং রানীগঞ্জ এলাকায় অনুভূত হয়েছে কম্পন।

বাঁকুড়া জেলায় কম্পন অনুভূত হতেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন অনেকেই। এমনকি প্রাচীণ প্রথা মেনে অনেক মহিলাকে বাড়ির বাইরে এসে সকলের মঙ্গলকামনায় শাঁখ বাজাতে দেখা যায়। এখনো পর্যন্ত ক্ষয় ক্ষতির খবর নেই। সন্ধ্যা সিংহ নামে এক মহিলা বলেন, বাড়িতে বসে ছিলাম। হঠাৎ করেই বাড়ির মধ্যে থাকা সব কিছু কেঁপে উঠলো। ভূমিকম্প হচ্ছে বুঝতে পেরেই বাড়ি থেকে সবাই মিলে বেরিয়ে আসি ও শাঁখ বাজাতে থাকি। তার জীবদ্দশায় এতো দীর্ঘ সময়ের ভূকম্প তিনি অনুভব করেননি বলে তিনি জানান।

ভূমিকম্প হলে তার অল্প সময় পরে ঘটে আফটার শক। সেই আফটার শকের প্রভাব কিছু কম হয় না। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয় আফটার শকের মতো ঘটনায়। সেই আফটার শকের আশঙ্কায় ভুগছেন বহু মানুষ। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

সদ্য মিটেছে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন। এখনও রাজ্যে মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্বাচনের উত্তাপ না কাটতেই ঘটে গেল ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হছে যে জেলাগুলিতে এই কম্পন অনুভূত হয়েছে তাদের অধিকাংশ জায়গায় সাফল্য মেলেনি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের। বীরভূম ছাড়া সব জেলাতেই বিশেষ সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। বীরভূম জেলার দুই আসনেই তৃণমূলের প্রার্থীরা জিতলেও সেখানেও ঘারের কাছে নিঃশ্বাস ফেলেছে পদ্ম শিবির। জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নিজের ওয়ার্ডেই জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী।