সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: তখন মহারাষ্ট্রে চলছে শিবসেনা-বিজেপির শাসন৷ নেপথ্য থেকে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন বালাসাহেব ঠাকরে৷ দিনটা ছিল ১৯৯৭ সালের ১৬ জানুয়ারি ৷ সকাল ১১টা ১০ মিনিট ৷ মুম্বইয়ের পাওয়াই অঞ্চলের তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে ‘ডাক্তার সাহাব’(ওই নামেই পরিচিত ছিলেন দত্তা সামন্ত ) টাটা সুমো করে ৫০ ফুট যেতে না যেতেই, গাড়ির সামনে মোটর সাইকেল করে চারজন এসে পড়ে ৷ তাদের দেখে কোনও শ্রমিক ভেবে গাড়ির গতি কমাতে বলে জানলার কাঁচটা নামান দত্তা সাহাব ৷ তখনই ওই মোটর সাইকেলে আরোহীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়৷

দুটি পিস্তল থেকে আততায়ীদের করা ১৭টি গুলি ঝাঁঝরা করে দেয় দত্তা সামন্তের মাথা- বুক-পেট ৷ তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়৷ এই শ্রমিক নেতার মত্যুর খবর জানাজানি হতেই শহরে নানা প্রান্তে প্রতিবাদ মিছিল বের করে শ্রমিকরা৷ তাঁর শেষযাত্রায় সামিল হয়েছিলেন বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের বহু মানুষ৷ আর সেই মিছিল থেকে আওয়াজ উঠেছিল- যোশী মুন্ডে আজ কে গুন্ডে ৷ তখন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী মনোহর যোশী এবং উপ মুখ্যমন্ত্রী হলেন গোপীনাথ মুণ্ডে ৷

তবে দত্তা সামন্তের হত্যা ছিল গত শতাব্দীর শেষ দিকে এটাই ছিল বম্বেতে তৃতীয় রাজনৈতিক নেতার হত্যা৷এই ধরনের হত্যা নিয়ে চিরকালই রহস্যই থেকে যায়৷ যথারীতি তেমন কোনও নিষ্পত্তি ছাড়াই যে ওই হত্যাকাণ্ডের ফাইল বন্ধ করে দেওয়াটা একদিক দিয়ে স্বাভাবিক ঘটনা৷ আর তেমনটাই হয়েছিল৷ ১৯৯৭ সালের নভেম্বরেই ওই হত্যা মামলা কোন নিষ্পত্তি ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ তখন ১৬জন অভিযুক্তের তালিকায় তৈরি হলেও তাদের মধ্যে থেকে নয় জন একেবারে পলাতক যাদের মধ্যে ছিল অন্ধকার জগতের ছোটা রাজন এবং গুরু সতম৷

তবে দত্তা সামন্তের হত্যার অভিয়োগে ২০০৫ সালের ১০ এপ্রিল পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে৷ ঘটনাটা অদ্ভূত- সেই সময় উত্তরাঞ্চলের দেরাদুন থেকে তিনজন গ্রেফতার হয়েছিলেন একেবারে পাতি অপহরণের কেসে ৷ কিন্তু সেখানে তখন তাদের জিজ্ঞসাবাদের সময় পুলিশ জানতে পারে এরা মুম্বইতে একটি হত্যাকান্ডের জন্য ‘ওয়ান্টেড’ছিল৷ সামন্তকে যে চারজন সুপারি কিলার হত্যা করেছিল এরা তাদেরই তিনজন ৷ এরপর ওই বিজয় চৌধুরী এবং তার অনুচরদের উত্তরাঞ্চল পুলিশ মুম্বইতে নিয়ে আসে৷ তখন দত্তা সামন্তের ভাই ফের তাঁর দাদার হত্যাকান্ডের ফাইল ওপেন করতে বলেন৷

এদিকে আবার ২০০৭ সালে ৩০ অক্টোবর তাঁর এক হত্যাকারী যিনি অন্ধকার জগতের ছোটা রাজনের হয়ে কাজ করত বলে অভিযোগ তাঁকে কোলাপুরে পুলিশের গুলিতে মারা যায়৷

সামন্ত তাঁর মৃত্যুর ১৫ বছর আগে শ্রমিকদের দাবি নিয়ে দেশের বাণিজ্য রাজধানী বম্বেতে শিল্পের চাকা একেবারে আটকে দিয়েছিলেন৷ সেখানে কাপড়ের কারখানাগুলিতে এমন ধর্মঘট হয়েছিল যা এদেশের ধর্মঘটের ইতিহাসে অন্য মাত্রা পায়৷ কারখানার শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস বৃদ্ধির দাবিতে ১৯৮২ সালের ১৮ জানুয়ারি এই ট্রেড ইউনিয়ন নেতা দত্তা সামন্তের নেতৃত্বে ওই ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল যাতে ৬৫টি টেক্সটাইল কারখানার প্রায় আড়াই লক্ষ শ্রমিক সামিল হয়েছিল৷ সেই সময় ২০ মাসের জন্য টেক্সটাইল মিলগুলিতে ধর্মঘট চলেছিল৷