বারুইপুর: বছরভর নানা সামাজিক কাজ করে বারুইপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘তিয়াস’। এবার লকডাউনের সময়েও কর্তব্য-পালনে অবিচল রইলেন ‘তিয়াস’-এর সদস্যরা। রুজি-রোজগারের পথ বন্ধ থাকা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেলেন তাঁরা। বাড়িয়ে দিলেন সাহায্যের হাত।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় লকডাউনের জেরে সমস্যায় থাকা গরিব মানুষের ঘরে এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পৌঁছে দিল ত্রাণ। ‘তিয়াস’-এর এই প্রয়াসে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বারুইপুর মহিলা থানার পুলিশকর্মীরা।

করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। এই পরিস্থিতিতে সমাজের একটা বড় অংশের মানুষের রুজি-রুটির সংস্থান ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংসার চালাতে নাজেহাল দশা এক শ্রেণির মানুষের। সংকটের এই মুহূর্তে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গরিবের পাশে দাঁড়াল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘তিয়াস’।

লকডাউন শুরুর পর থেকেই বারুইপুর স্টেশন চত্বরের ভবঘুরেদের সকালের টিফিন সরবরাহ করে এই সংস্থা। ‘তিয়াস’-এর সদস্যরা নিজে হাতে খাবার তুলে দিয়েছেন ভবঘুরেদের হাতে।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘তিয়াস’ পৌঁছে গিয়েছিল মইপিঠেও। এলাকার দু’শোরও বেশি বাচ্চার হাতে তাঁদের তরফে তুলে দেওয়া হয় দুধ ও ডিম। এই কাজে সংস্থাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বারুইপুর মহিলা থানা।

একইভাবে ওই সংস্থার তরফে মন্দিরবাজারের নাইয়ারাট এলাকায় দেড়শো গরিব পরিবারের হাতে ত্রাণ-সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। মথুরাপুরের পাটকেলবেরিয়া গ্রামে দুঃস্থ ৬৫ পরিবারকে ত্রাণ-সামগ্রী বিলি করা হয়।

মথুরাপুরেই রঘুনাথপুর গ্রামে ৮২টি পরিবার ও শিবপুর গ্রামের ১২০টি পরিবারকে সংকটের এই মুহূর্তে ত্রাণ-সামগ্রী দেন এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা। এছাড়াও মগরাহাটের ঝিনকিহাট চত্বরের ৩৫টি পরিবারকে চাল-ডাল ও অন্য খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়।

মারণ করোনার সংক্রমণ ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে গোটা রাজ্যে। একটানা লকডাউনে হিমশিম দশা আমজনতার। এই পরিস্থিতিতে একটি ক্ষুদ্র স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘তিয়াস’-এর অনন্য এই প্রয়াসকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বিশিষ্টরা।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV