স্টাফরিপোর্টার, কলকাতা: সর্দি-কাশি নেই৷ অথচ, সকালে ঘুম ভাঙার পরেই বুঝলেন যে, আপনার গলায় ব্যথা৷ ঢোক গেলার সময় কষ্ট হচ্ছে৷ অথবা, মনে হচ্ছে, গলায় যেন কিছু একটা বিঁধে রয়েছে৷ অথচ, ঘুমাতে যাওয়ার আগেও এই ধরনের কোনও সমস্যা ছিল না আপনার৷ তা হলে!! কোন কারণে এই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হলেন আপনি?

আরওপড়ুন:ফ্রি চিকিৎসায় কিনতে হবে পানীয় জল! ডাক্তারদের নিশানায় সরকার

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, কখনও ঠান্ডা, কখনও আবার গরম৷ শীতের সময় আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালিপনার কারণেই জীবাণুদের বাড়বাড়ন্ত হয়৷ যে কারণে, গলার সংক্রমণ বাড়ছে৷ যার পরিণতি গলায় ব্যথা৷ শীতের সময় এই ধরনের সমস্যায় আক্রান্তদের সংখ্যাও বাড়ছে৷ একই সঙ্গে অবশ্য ওই সব চিকিৎসক বলছেন যে, সতর্ক থাকলেই শীতের সময় সুস্থ থাকাটা অসম্ভব কোনও বিষয় নয়৷

কেননা, শীতের মরসুমে সাধারণত সুস্থ থাকা যায়৷যদিও, শিশু, বয়স্ক এবং অ্যাজমা সহ অন্য কয়েকটি ক্ষেত্রে আক্রান্তদের জন্য অপেক্ষাকৃত বেশি সতর্ক থাকা জারুরি৷ তবে, শীতের সময় সাবধান না থাকলে যে কোনও বয়সি-ই যে সর্দি-কাশির সমস্যায় আক্রান্ত হবেন না, তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই৷

আরওপড়ুন: সরকারি জনস্বার্থ-বিজ্ঞাপনে দেশপ্রেমের মোড়কে গণপ্রহারের প্রচার

আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার সঙ্গে বিছানা এবং চাদর-লেপ-কম্বল অথবা অন্য কোনও শীতবস্ত্রের মধ্যে লুকিয়ে থাকা জীবাণুরাই আচমকা এই গলায় ব্যথার জন্য দায়ী বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা৷ ইচ মাইট নামে ওই জীবাণু স্বরযন্ত্রে প্রবেশ করার কারণে আচমকা এ ভাবে গলায় ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়৷ওই সব চিকিৎসক বলছেন, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে জীবাণুরা সক্রিয় হয়ে ওঠে৷ এর সঙ্গে ঘরের ধুলোকণার জন্যও সমস্যা বেড়ে যায়৷ বিছানার মধ্যে বাসা বাঁধে ইচ মাইট৷

যে কারণে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না থাকাটাও গলা ব্যথার কারণ৷শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে দরজা, জানলা বন্ধ রেখে দেওয়ার কারণে স্বাভাবিক কারণে ঘরে হাওয়া চলাচল বন্ধ হয়ে যায়৷ নিয়মিত রোদ না পাওয়ায় চাদর-লেপ-কম্বল অথবা অন্য কোনও শীতবস্ত্রের ভিতর লুকিয়ে থাকা ইচ মাইট স্বরযন্ত্রে প্রবেশ করে রোগের বিস্তার ঘটায়৷ এই ধরনের সমস্যার জন্য বায়দূষণের কারণও দায়ী রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই সব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক৷

আরওপড়ুন:‘বিছানার অসংখ্য কীট বাড়িয়ে তোলে অ্যালার্জি’

তবে, শুধুমাত্র আবার আচমকা গলার ব্যথাও নয়৷ এই একই কারণে হতে পারে খুশখুশে কাশি৷ ওই কাশির জন্য আবার গলা বসেও যেতে পারে৷ এমনকী, জ্বর জ্বর ভাব অথবা জ্বর কিংবা সর্দি লাগার উপসর্গ হিসেবে নাক দিয়ে জল-ও বের হতে পারে৷ তা হলে এই ধরনের সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কীকী করণীয়?

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ঘরে যাতে নিয়মিত আলো-বাতাস পৌঁছয়, সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে৷ কভার পরিয়ে চাদর-লেপ-কম্বল অথবা অন্য কোনও শীতবস্ত্রের ব্যবহার করতে হবে৷ খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নিতে হবে৷ বাইরের ধুলোর থেকে ঘরের ধুলো অনেক বেশি ক্ষতিকর৷ যেকারণে, বিছানার চাদর, বালিশের ওয়াড় এবং লেপ-কম্বলসহ অন্যান্য শীতবস্ত্র সপ্তাহে অন্তত একদিন ফুটন্ত  জলে কাচতে হবে৷

শোওয়ার ঘরে কার্পেট রাখা উচিত নয়৷ পোষ্য হিসেবে কুকুর, বিড়াল, পাখি এবং কোনও বনসাই শোওয়ার ঘরে রাখা উচিত নয়৷ একই রকমভাবে তাপমাত্রার তারতম্যও সামলাতে হবে, বাইরের খুব গরম থেকে ঘরের বা অফিসের ভিতরে chilled air conditioner-এ ঘনঘন যাতায়াত বন্ধ করতে হবে৷ খাওয়ার অব্যবহিত পরেই শুতে যাওয়া উচিত নয় বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা৷

আরওপড়ুন:‘অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয় অ্যাজমারভ্যাকসিন’