রেপ্লিকা

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : দেবী দুর্গারও নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়? প্রশ্ন যদি এমন হয় তাহলে উত্তর হবে হ্যাঁ, দেবী হলেও, অসুর নিধনকারি হলেও তাঁরও প্রয়োজন পরে নিরাপত্তার। কখন? যখন দুর্গা হয় ৫০ কিলোর সোনা দিয়ে তৈরি হয়। ২০১৯-এ সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের চমক এই সোনার দুর্গা। এমন সোনার দুর্গা তৈরি করতে স্বাভাবিকভাবেই তাই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কি থাকছে সোনায় মোড়া দুর্গার নিরাপত্তার জন্য? ক্লাবকর্তা সজল ঘোষ বলেন, “দুর্গার নিরাপত্তার জন্য তাঁর হাতে থাকে ত্রিশূল কিন্তু এটা তো পুরাণ নয় বাস্তব। বাস্তব বড়ই কঠিন। তার উপর আমাদের দুর্গা যখন ৫০ কেজির সোনা থাকছে তখন নিরাপত্তার প্রয়োজন তো রয়েইছে। আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি।” তিনি বলেন, “ইন্ট্যালিজেন্স সিকিউরিটি সিস্টেম থাকছে প্রতিমার সুরক্ষার জন্য। বিভিন্ন জায়গায় সেন্সর দেওয়া থাকবে। চেনা ছোঁয়া হলে সেটি কোনও সাইন দেবে না কিন্তু যদি অচেনা কেউ কাছাকাছি চলে যায় সঙ্গে সঙ্গে সেন্সর আমাদের জানিয়ে দেবে। যেখানে হাত দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে লেজার লাইট পড়বে। হুটার বাজবে। অপরাধীর পালানোর জায়গা নেই। তাছাড়া আমরা মন্ডপের জন্য মেটাল ডিটেক্টর রাখছি। থাকবে স্নিফার ডগ। কাজেই নিরাপত্তা আমরা নিশ্ছিদ্র করেই নামছি।”

পুজোর সভাপতি কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ প্রদীপ ঘোষ। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে তিনি পুজোর সঙ্গে জড়িত। তাঁর কথায়, “সজল যা বলেছে সেগুলো যেমন থাকছেই যন্ত্রের পাশাপাশি আমাদের বহু সেচ্ছাসেবক রয়েছে। তাঁরাও নিরাপত্তার জন্যে থাকবে। যেহেতু সোনার দুর্গা, তাই বাড়তি সতর্কতাও নেওয়াটা প্রয়োজন।”

সোনার শাড়ি, রূপোর রথ। এবার সোনার দুর্গা, যার খরচ প্রায় ১৭ কোটি টাকা। কলকাতার পুজোয় এর আগে এত টাকা খরচ করে দুর্গা প্রতিমা তৈরি হয়নি বলেই দাবি পুজো কমিটির। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো এ বার ৮৪ বছরের পড়বে। প্রতিমা বসবেন সীসমহলে অর্থাৎ মণ্ডপ হবে কাঁচের। কাঁচের মণ্ডপ তৈরির জন্য দিল্লির ফিরোজাবাদ থেকে লোক নিয়ে আসা হচ্ছে। এই মণ্ডপ তৈরির জন্য তাদের এই বছরের বাজেট হতে পারে ২ কোটি টাকা। শিল্পী দীপক ঘোষের তত্ত্বাবধানে মায়াপুরের প্রস্তাবিত একটি মন্দিরের আদলে তৈরি হবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের মণ্ডপ। মন্দিরের আদলে ওই মণ্ডপ প্রায় ১০ টন কাচ দিয়ে তৈরি হবে।

সর্বভারতীয় একটি স্বর্ণবিপণীর উদ্যোগে ওই বিপুল অর্থের প্রতিমা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্লাব কর্তা সজল ঘোষ। পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক সজল ঘোষ বলেন, “আমাদের ক্লাব বৌ-বাজার এলাকার। তাই বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা বলা যেতে পারে তাদের কাজের সম্মান জানিয়ে আমাদের দুর্গাপুজো করছি। সোনার শাড়ি দেখিয়েছি, রূপোর রথ হয়েছে। এবার তাই আমাদের চমক সোনার দুর্গা। নতুন কিছু করার চেষ্টা করি। সেখান থেকেই এই ভাবনা। মণ্ডপ এবং প্রতিমা দেখে দর্শক আশা করি এবারেও খুশি হবেন।” সোনার প্রতিমা তৈরি করছেন শিল্পী মিন্টু পাল।