অরুণ জেটলি (১৯৫২-২০১৯), ১৯৫২ সালের ২৮ ডিসেম্বর দিল্লিতে জন্ম হয় অরুণ জেটলির৷ তাঁর বাবা কিষাণ জেটলি ছিলেন আইনজীবি এবং মা রতন প্রভা জেটলি ছিলেন গৃহবধূ৷  দিল্লির সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে শ্রী রাম কলেজ থেকে বি কম পাশ করেন তিনি। এরপর দিল্লি ইউনিভার্সিটি থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করে এলএলবি ডিগ্রি পান। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়, যোগ দেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদে(এবিভিপি)। ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্টও হয়েছিলেন তিনি।

ছাত্রাবস্থায় জরুরি অবস্থায় সময় আটক করা হয়েছিল তাঁকে। ১৯ মাস জেলে ছিলেন তিনি। এছাড়া, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ নারায়ণ ও জয়প্রকাশ নারায়ণ যে লড়াই শুরু করেছিলেন, তাতেও ছিলেন জেটলি। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে জন সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।

রাজনীতিতে যোগ দিয়ে প্রথমে দিল্লি এবিভিপি-র প্রেসিডেন্ট এবং কিছুদিন পরে এবিভিপি-র অল ইন্ডিয়া সেক্রেটারি করা হয় তাঁকে। এরপর যুব বিজেপির দিল্লির ইউনিটের সেক্রেটারিও হয়েছিলেন।  রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেও পেশাগত ভাবে আইনজীবী ছিলেন অরুণ জেটলি। আবার ক্রিকেট খেলায় উৎসাহী অরুণ জেটলি একজন ক্রিকেট প্রশাসকেরও দায়িত্ব সামলেছেন৷ তিনি দীর্ঘদিন ডিডিসিএ-র সভাপতি ছিলেন ৷ আবার বিসিসিআই-এর সহ-সভাপতিও হয়েছিলেন৷

১৯৯১ সালে তিনি বিজেপির জাতীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য হন৷ তিনি ১৯৯৯ সাধারণ নির্বাচনের সময় বিজেপি-র মুখপাত্র ছিলেন৷ বাজপেয়ী জমানায় তিনি তথ্য ও সম্প্রচার , বিলগ্নিকরণ, আইন ও কোম্পানি বিষয়ক এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন৷

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেও পেশাগত ভাবে আইনজীবী ছিলেন অরুণ জেটলি। প্রথম মোদী সরকারের অর্থমন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এছাড়াও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলাতে হয়েছে৷ তিনি অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন নোট বাতিল হয়েছে৷ তাঁর সময়ে চালু হয়েছে পণ্য পরিষেবা কর৷

তবে কিডনি জনিত রোগে আক্রান্ত হন ফলে ২০১৮ সালের ১৪ মে অপারেশন করে তার কিডনি প্রতিস্থাপন হয় ৷ এরপরে জানুয়ারি মাসে তিনি চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্ক যান এবং বেশ কিছুদিন পরে তিনি দেশে ফেরেন৷ বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকায় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে অর্থমন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী করা হয়েছিল৷ ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি বিপুল আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসলেও অসুস্থতার কারণে জেটলি আর মন্ত্রী হতে চাননি৷ এদিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৯ অগস্ট থেকে তিনি অল ইন্ডিয়া মেডিকেল সায়েন্সে ভর্তি হন৷ ২৪ অগস্ট তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন৷