নয়াদিল্লি : ১৯৭৫ সালের২৫ জুন মধ্যরাতে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরাগান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন৷ তৎকালীন সরকার মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করায় সেদিন এর বিরোধিতা করলে দফায় দফায় গ্রেফতার করা হয়েছিল সরকার বিরোধী নেতাদের ৷ তাদের মধ্যে অনেকেই আবার বর্তমানে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপিতে৷ এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই সময় বড় নেতারা কারা কতদিন ছিলেন কারাগারের অন্তরালে…

১) বিজেপি নেতা তথা প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী কারাবরণ করতে হয়েছিল জরুরি অবস্থার সময়ে৷ সেই সময় বাজপেয়ীকে তাঁর তীব্র পিঠের ব্যাথার কারণে তাকে জেল থেকে ছাড়া হলেও দিল্লিতে তাঁর বাসভবনে গৃহবন্দী করে রাখা হয়৷ কিন্তু পিঠে ব্যাথা এমনই পর্যায়ে পৌঁছে ছিল যে তাঁকে ওই সময় এইমস হাসপাতালে ঠাই নিয়ে হয়৷

২)বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন উপ প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবাণীর ১৯ মাস জেল হয়েছিল৷ একবারে ১৯৭৫ সালের ২৬ জুন আদবাণীকে গ্রেফতার করা হয় বেঙ্গালুরু থেকে৷ সেখান থেকে রোহটাক সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে আসা হয়৷ তারপর দুমাস পরে তাঁকে সরিয়ে আনা হয় বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল জেলে৷

৩) প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিকে ১৯ মাস জেলে যেতে হয়ছিল জরুরি অবস্থার সময়ে৷ তাঁকে গ্রেফতার করে প্রথমে এক সপ্তাহ রাখা হয়েছিল দিল্লির তিহার জেলে৷ তারপরে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আম্বালা সেন্ট্রাল জেলে৷ জেটলি জানিয়েছেন, সেই সময় জেলে থাকাকালীন কয়েক মাস তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি৷ ১৯ মাসের কারাবাসের জন্য তাঁর পড়াশুনার ক্ষেত্রে এক বছর নষ্ট হয়েছিল৷

৪) বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভাডেকারকেও জরুরি অবস্থার সময় জেলে যেতে হয়েছিল৷ সেই সময় তাঁর হার্টের অবস্থা অবনতি হওয়া অপারেশন করা জরুরি হয়ে পড়ে অথচ জেল কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতালে পাঠাতে নারাজ ছিল৷ জেলের আটকরা ধর্মঘট করার তাঁর অপারেশনের ব্যবস্থা হয় এবং তিনি বেঁচে যান৷ যখন তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন তখন তিনি ছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মী৷ ফলে সাসপেন্ড হয়েছিলেন তবে জরুরি অবস্থা উঠে গেলে তিনি ফের কাজে যোগ দেন৷

৫) উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়ানাইডু ১৭ মাস জেলে ছিলেন৷ প্রথমে দু’মাস তিনি অ্যান্ডারগ্রাউন্ডে ছিলেন৷ তবে পরে গ্রেফতার হন এবং ১৭ মাসের জন্য তাঁর জেল হয়৷

৬) আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ জরুরি অবস্থার সময় জেলে ছিলেন এক বছর৷ ১৯৭৫ সালের অগস্টে তাঁকে গ্রেফতার করে পাটনার বাঁকীপুর সেন্ট্রাল জেলে রাখা হয়েছিল৷ গ্রেফতারের এক বছর পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল৷