সুমন আদক, হাওড়া: দুর্গাপুজোয় হরগৌরীর আরাধনা৷ হাওড়ার ডোমজুড় মাকড়দহের জলাবাড়ির পারিবারিক পুজোয় এটাই রীতি৷ এবছর এই পারিবারিক পুজোর শতবর্ষ। শতবর্ষে আজও উজ্জ্বল জলাবাড়ির হরগৌরীর পুজো৷

একইরকম নিষ্ঠা ও ভক্তি ভরে হয়ে চলেছে হাওড়ার মাকড়দহ গ্রামের বর্ধিষ্ণু ব্যবসায়ী কেদারনাথ শ্রীমানির জলাবাড়ির এই হরগৌরী পুজো। এই পুজো নিয়ে পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের প্রতিনিধি রুদ্রনারায়ণ শ্রীমানি জানান, কেদারনাথ শ্রীমানির দুই ছেলে৷ বড় ছেলে বিশ্বনাথ শ্রীমানি ও ছোট ছেলে হরিপদ শ্রীমানি৷

বিশ্বনাথবাবুর স্ত্রী সকলের কাছে বড়মা হিসাবে পরিচিত ছিলেন৷ কথিত আছে, আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে এরকমই এক শরতের ভোরে বাড়ির খিড়কি দোর খুলে তা পরিষ্কার করছিলেন বড়মা৷ তখনই নজরে পড়ে দরজার কাছে একটি হরগৌরী যুগলের কাঠামো রাখা৷

তখন দুর্গাপুজো আসতে আর মাসখানেক মতো বাকি৷ বড়মার আগ্রহে স্বামী বিশ্বনাথ শ্রীমানি পটুয়াদের কাছে যান৷ ওই কাঠামোয় মাটি লাগিয়ে তৈরি হয় হরগৌরীর মৃন্ময়ী মূর্তি৷ সেই থেকেই এই বাড়িতে পুজো শুরু হয়। সালটা ছিল ইংরেজি ১৯১৮। গ্রামের সমস্ত মানুষ আজও এই পুজো দেখতে ভিড় করেন। পুজো দেখতে আসেন তাঁরা।

বিশ্বনাথ শ্রীমানির এলাকায় আজও একইরকম নামযশ৷ গ্রামের মানুষের জ্ঞান পিপাসাকে বাড়িয়ে তুলতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মাকড়দহ সারস্বত গ্রন্থাগার৷ হরগৌরী পুজোর পাশাপাশি এই গ্রন্থাগারও এবছর শতবর্ষে পা দিল৷

এই বাড়ির পাশেই ছিল বিস্তীর্ণ জলাভূমি। সেই থেকেই বাড়ির নাম হয় জলাবাড়ি। অনেকেই এই বাড়িকে হরগৌরী বাড়ি বলেও ডেকে থাকেন। দেবী মাকে পুজোর ক’দিন বাড়ির মহিলাদের হাতের তৈরি নানা ধরনের নারকেল এবং ক্ষীরের তৈরি ঘরোয়া মিষ্টি নিবেদন করা হয়৷

এছাড়া নৈবেদ্যের সঙ্গে প্রতিদিন দেবীর পুজোয় দেওয়া হয় নারকেলের তৈরি মনোহরা। অষ্টমীতে কুমারী পুজোর পর হয় সধবা পুজো। এবছর যেহেতু শতবর্ষ৷ রয়েছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান৷ মহাষ্টমীতে ১০৮টি পদ্ম ও প্রদীপের সঙ্গে ১০৮জন অনাথ ও প্রতিবন্ধীকে নববস্ত্র এবং স্মারক দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হবে। পরে তাঁদের বিভিন্ন নামিদামি পুজোর ঠাকুর দেখানোর পাশাপাশি বেলুড় মঠের দুর্গা প্রতিমা দর্শন করানো হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে।