বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: তাঁরা কেন দুর্গাপুজো করতে পারবেন না? প্রতি বছর এমনই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে যৌনকর্মীদের৷ তবে, হাল-ও ছাড়েনি তাঁদের অন্যতম সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷ আর, যে কারণে, শেষ পর্যন্ত তাঁরা দুর্গাপুজোর আয়োজনও করতে পেরেছেন৷

কিন্তু, হাল না ছাড়ার জেরে একদিকে যেমন আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে৷ তেমনই অন্যদিকে, দুর্গাপুজোর ‘অধিকার’ অর্জনের জন্য আইনি লড়াইয়ের জেরে খরচ-ও হয়েছে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার টাকা৷ এবং, এমন কারণে আবার বিঘ্নিত হয়েছে শান্তির পরিবেশ-ও!dmsc-dp-01

আরও পড়ুন: দুর্বারকে অচ্ছুৎ রেখে সোনাগাছিতে স্বাবলম্বন স্পেশাল

আর, তাই, এ বার আর শান্তির পরিবেশ বিঘ্নিত করতে রাজি নয় দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷ যে কারণে, এ বার দুর্গাপুজোর আয়োজন না করে, ওই টাকা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রাণ তহবিলে দান করছে পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের অন্যতম এই সংগঠন৷ দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির মেন্টর ভারতী দে-র কথায়, ‘‘পর পর তিন বছর দুর্গাপুজোর জন্য আদালতে যেতে হয়েছে৷ তার জন্য প্রতি বছর ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে৷ এ বছরও দুর্গাপুজো করতে চাইলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া আমাদের কাছে অন্য আর কোনও উপায় নেই৷’’

আরও পড়ুন: কলকাতায় এ বার উবের ক্যাব চালাবেন যৌনকর্মীরা

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘একই জায়গায় অন্যরা কালীপুজো, গণেশপুজো করতে পারেন৷ তা হলে, ওই একই জায়গায় দুর্বার কেন দুর্গাপুজো করতে পারবে না? তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পুজোর খরচ আমরা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করব৷ পর পর তিন বছর যে ভাবে পুজো করতে হয়েছে, সেটা না করে দুর্গতদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পুজোর টাকা দিয়ে দেওয়া বরং অনেক বেশি শান্তির৷’’ দুর্গাপুজোর মণ্ডপের জন্য সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে কি না, সেই বিষয়টি নিয়ে সমস্যা তৈরি হওয়ায় গত তিন বছর দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটিকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল৷ এ বারও একই সমস্যা রয়েছে৷

আরও পড়ুন: নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে আইনের বদলে ভরসা ফেসবুক

যদিও, এই বিষয়ে বিভিন্ন মহলের এমনই বক্তব্য যে, শুধুমাত্র দুর্গাপুজো নয়৷ অন্য বিভিন্ন পুজো অথবা কোনও উৎসব কিংবা রাজনৈতিক কোনও সভা বা অনুষ্ঠানের জন্য যেখানে কলকাতার কোনও না কোনও অংশের রাস্তা কোনও না কোনও সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেখানে যৌনকর্মীদের এই সংগঠনের পুজো মণ্ডপকে কেন্দ্র করে এমন সমস্যার পিছনে কি বিশেষ কোনও কারণ রয়েছে? দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অবশ্য শুরুর দিকে স্থানীয়দের তরফে আপত্তি উঠেছিল৷ তবে, পরবর্তীতে ওই আপত্তি সেভাবে আর দেখা দেয়নি বলেও জানা গিয়েছে৷ মণ্ডপ নিয়ে এই বছরও কেন একই সমস্যা রয়ে গিয়েছে?

আরও পড়ুন: সারদাকাণ্ডে এক সাংবাদিকের আত্মহত্যা এবং মিডিয়া

দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির মেন্টর বলেন, ‘‘যে ঘরে আমরা দুর্গাপুজোর আয়োজন করি, সেই ঘরের জায়গা খুবই কম৷ তার উপর, ওই ঘরে একটি মাত্র দরজা রয়েছে৷ কোনও দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলে, ওই ছোট ঘর আর একটি দরজার জন্য বিপদ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে৷ তাই, ওই ঘরের দরজার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আমরা আবেদন করেছিলাম৷ অথচ, আমাদের ওই আবেদনের ভিত্তিতে পুরসভার অনুমতি-ই পাওয়া গেল না৷ এই অবস্থায় দুর্গাপুজো করতে হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া অন্য আর কোনও উপায় নেই৷ তাই এ বার আমরা পুজোর আয়োজন করছি না৷’’ মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে কত টাকা দেওয়া হচ্ছে?

আরও পড়ুন: প্রথার নামে প্রকাশ্যে গণধর্ষণ যেখানে এখন এক খেলা!

ভারতী দে বলেন, ‘‘আমাদের দুর্গাপুজোর বাজেট থাকে দুই লক্ষ টাকা৷ এই বছর পুজো হবে না বলে চাঁদাও তোলা হয়নি৷ তবে, আগের বছরের সব টাকা খরচও হয়নি৷ মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে কত টাকা দান করা হবে, সেই বিষয়ে বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর আমরা সিদ্ধান্ত নেব৷’’ দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটিতে ২,৭০০ সদস্য রয়েছেন৷ দুর্গাপুজোর জন্য এই সংগঠনের অধীনে থাকা যৌনকর্মীরা প্রত্যেকে মাত্র ১০ টাকা করে চাঁদা দেন৷ ভারতী দে-র কথায়, ‘‘মেয়েরা সবাই যাতে পুজোয় অংশগ্রহণ করতে পারে, তার জন্যই ১০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়৷’’ তা হলে, এ বার কি হাল ছেড়ে-ই দিলেন? তিনি বলেন, ‘‘হাল ছাড়িনি৷ আগামী বছর যাতে দুর্গাপুজো করতে পারি, আমরা এখন সেই চেষ্টাই করব৷’’ একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘পুজো করার অধিকার সকলের রয়েছে৷ তা হলে, দুর্বার কেন পুজো করতে পারবে না?’’dmsc-dp-06

_____________________________________________________________________

আরও পড়ুন:
(০১) সন্তানের পরিচয় জানাতে প্রথমেই আসুক মায়ের নাম!
(০২) দলবদলের সঙ্গেই বাতিল করতে হবে জনপ্রতিনিধি-পদ
(০৩) বাংলাদেশের মতো হতে চাইছে ভারতের বাংলা!
(০৪) Auto-Crazy যাত্রীর জন্যই চালক জারি রাখে Autocracy
(০৫) সিলেবাসে চাই ওষুধবিজ্ঞান, পাঠে মগ্ন স্কুল-পড়ুয়ারা
(০৬) কপাল পোড়াদের জীবনে এক বারই আসে প্রেম!
(০৭) মুমূর্ষুর প্রাণরক্ষায় ক্যাসুয়ালটি ব্লক চাইছেন ডাক্তাররা

_____________________________________________________________________