প্রসেনজিৎ চৌধুরী: মন্দিরের জৌলুস রয়েছে৷ সঙ্গে রয়েছে অনেক গল্প৷ মিশে আছে ইতিহাস৷ তার সঙ্গে জড়িয়ে সহাবস্থান৷ যে শহরের বুকে হাফিজ সইদের জঙ্গি নেতারা চিৎকার করে নাশকতার হুমকি দেয়৷ সেখানেই ধর্মীয় সহাবস্থানের কেন্দ্র হিসেবে নজর কাড়ে এই মন্দির৷ শুরু করা যাক শ্রী স্বামীনারায়ণ মন্দিরের কথা৷ এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের ধর্মনিরপেক্ষতার কেন্দ্র৷ নবরাত্রির উৎসবে দুর্গা আরাধনায় সেজে উঠেছে মন্দিরটি৷

নবরাত্রির অন্যতম আকর্ষণ রামায়ণের নাট্যরূপ৷ স্বামীনারায়ণ মন্দিরের উঠোনে চলছে সেই পর্ব৷ মুসলিম যুবক রাম সেজেছেন৷ সীতা উদ্ধারে রাবণের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন৷ লক্ষ্মণ হনুমান আর বানর বাহিনী নিয়ে জমজমাট পরিবেশে চলছে নাটক৷ দর্শকরা ভিড় করেছেন৷ এটাই করাচির স্বামী নারায়ণ মন্দিরের বৈশিষ্ট৷ গত ১৬৬ বছর ধরে একই ধারা চলে আসছে৷

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হওয়ার পর করাচির স্বামীনারায়ণ মন্দির ছিল উদ্বাস্তু ক্যাম্প৷ মন্দিরের আসল মূর্তি ভারতে আনা হয়েছিল৷ রাজস্থানের খান গ্রামে সেটি রাখা হয়৷ পাকিস্তানের জাতির জনক দেশের প্রথম গভর্নর জেনারেল মহম্মদ আলি জিন্না দর্শন করেছিলেন এই মন্দির৷ সেদিক থেকে দেশটির ইতিহাসের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে স্থাপত্যটি৷ ১৯৮৯ সালে প্রথমবার এক ভারত থেকে যাওয়া সাধক প্রতিনিধি দল মন্দির দর্শন করেন৷

পাকিস্তানের বন্দর নগরী করাচি৷ এখানকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এম.এ জিন্না রোড৷ এই সড়কের সবথেকে পরিচিত ঠিকানা স্বামী নারায়ণ মন্দির৷ পথ চলতি যে কেউ অপরিচিত দর্শনার্থীকে এই ঠিকানা বলে দেবেন৷ আদতে পাকিস্তানি সংখ্যালঘু সমাজ বিশেষ করে হিন্দুদের যে কোনও উৎসবের কেন্দ্র৷ ধর্মীয় বাঁধন কেটে শিখ, মুসলিম, খ্রিষ্টান যে কোনও ধর্মাবলম্বী এখানে আসেন৷ রামনবমী, জন্মাষ্টমী, দশেরা, দেওয়ালি, সহ বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়৷ হয় গণ বিবাহ৷ নবরাত্রির উৎসব উপলক্ষে প্রতিদিনই ভিড় থাকছে স্বামীনারায়ণ মন্দিরে৷ হচ্ছে বিশেষ আরাধনা৷