দেবযানী সরকার, কলকাতা: দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে ভিআইপি গেট এবং পাস প্রথায় আপত্তি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুক্রবার পুজো কমিটিগুলোকে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন ওই প্রথা তুলে দেওয়ার জন্য। আর তাতেই মাথায় হাত পড়েছে পুজো কমিটিগুলির। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশে অনেকটাই আর্থিক ক্ষতি হল তাঁদের।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে প্রশাসনিক এবং সমন্বয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘কেউ খারাপ ভাবে নেবেন না। পুজোয় ভিআইপি পাস এবং ভিআইপি গেট প্রথাটা খুব খারাপ।” তিনি আরও বলেন,‘‘ কোনও কোনও ক্লাবে ভিআইপি গেট রয়েছে। এতে প্রবলেম হয়। দেখতে যদি হয়, লাইন দিয়ে ঢোকো। এটা বাদ দিন। সব ঠিক হয়ে যাবে।”

উত্তর কলকাতার পুরোনো এবং অবশ্যই হেভিওয়েট পুজো কুমোরটুলি সার্বজনীনের অন্যতম কর্মকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, “ভিআইপি গেট তুলে দিলে আমাদের অনেক বড় আর্থিক ক্ষতি হয়ে যাবে। কারণ, অনেক সংস্থা ভিআইপি গেটে বিজ্ঞাপন দেয়। গতবছরই তিনটি সংস্থা ভিআইপি গেটে বিজ্ঞাপন দিয়েছে। প্রত্যেকের থেকে 40 হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। এবার চারটে সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছিল। এক লক্ষ ষাট হাজার টাকা পাওয়া যেত। এছাড়া অনেক সংস্থা ভিআইপি পাস কিনত। “

তিনি বলেন, “পুজোর অনেক খরচ। প্রায় দেড়-দু লক্ষ টাকা কমে যাওয়া মানে অনেকটাই ধাক্কা।” দেবাশিসবাবু জানিয়েছেন, বিষয়টি বিবেচনার জন্য তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবেন। উল্লেখ্য, গত কয়েকবছর ধরে এই পুজোর উদ্বোধন করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দক্ষিণের অন্যতম হেভিওয়েট পুজো বাদমতলা আষাঢ় সঙ্ঘের কর্মকর্তা সন্দীপবাবুর কথায়, “প্রতিবছর জিনিসপত্রের যা দাম বাড়ছে তাতে পুজোর বাজেট আমাদের বাড়াতে হয়েছে। ভিআইপি গেট হলে কিছু আয় হয়। সেটা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেল। তবে সিনিয়র সিটিজেন এবং ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জ যাঁরা তাঁদের জন্য আমরা আলাদা একটা গেট করি। সেটা করতে দেবে কিনা সেব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে হবে। কারণ তাঁদের পক্ষে অত ভিড় থেকে ঠাকুর দেখা সম্ভব নয়।”

এদিন মুখ্যমন্ত্রী ভিআইপিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘চতুর্থীর পর থেকে রাস্তায় লালবাতি নিয়ে বেরোনো উচিৎ নয়। যাঁরা ভিআইপি, তাঁরা দুপুর বেলায় দেখতে যান। না হলে ফাঁকা সময়ে যান।” এব্যাপারে ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সম্পাদক তথা হাতিবাগান সার্বজনীনের অন্যতম কর্মকর্তা শাশ্বত বসু বলেন, “বাড়িতে কোনও অনুষ্ঠান হলে নিমন্ত্রিতদের কার্ড পাঠানোই তো রেওয়াজ। তাঁরা কি বিনা কার্ডে আসেন? সেরকম ফোরাম থেকে আমরাও আমাদের মেম্বারদের ভিআইপি পাস দিই। কিন্তু ভিআইপি গেট বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা কেন জেনারেল লাইনে দাঁড়িয়ে মণ্ডপে ঢুকবেন? আমরা এব্যাপারে ফোরামে আলোচনা করব।”