ছবি গুগল থেকে প্রাপ্ত৷

সুমন আদক, হাওড়া: মঙ্গল গ্রহ নিয়ে জানার আগ্রহ সকলেরই কম বেশি রয়েছে৷ কেমন এই গ্রহ, কেনই বা একে লাল গ্রহ বলা হয় তা জানার কৌতূহল নেহাত কম নয়। মঙ্গলকে আরও গভীরভাবে জানতে নাসা এখনও নানা পরীক্ষানিরীক্ষা করে চলেছে৷ শোনা যায়, মঙ্গলেও নাকি

এখনও অপেক্ষা, পৃথিবীর মানুষ পা রাখবে এই বিস্ময় গ্রহে! এই মহাজাগতিক বিস্ময়কর মঙ্গল গ্রহকেই থিম করেছে মধ্য হাওড়ার উত্তর খুরুট বারোয়ারি পুজো কমিটি৷ তাদের থিম মঙ্গলে মা৷ পুজো উদ্যোক্তাদের কথায়, ধরুন আপনি পথ হারিয়েছেন লাল ধূলোর ঝড়ে। আর আপনাকে পথ চিনিয়ে দিল এক অদ্ভুত দর্শন প্রাণী। যার মুখের ভাষা আপনার বোধগম্য নয়। যার শরীরী বিভঙ্গ আপনার অচেনা। হ্যাঁ একদম ঠিক।

এবার ৭৯তম দুর্গোৎসবে উত্তর খুরুট বারোয়ারি পুজো কমিটি আপনাকে নিয়ে যাবে মঙ্গলে৷ সৌরপরিবারের এই লাল গ্রহকে নিয়ে মানব জগতে কৌতূহল দুর্নিবার। সৌরজগতে অবস্থানের নিরিখে পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ মঙ্গলের এই মহাজাগতিক অবস্থান তত্ত্বগতভাবে প্রাণের বিকাশ এবং শাশ্বত প্রবাহের অনুকূল।

পৃথিবীর মত মঙ্গল গ্রহেও নাকি ঋতু পরিবর্তন হয়। তবে পৃথিবীর মত ছ’টি নয়, মঙ্গল গ্রহে ঋতু আছে চারটি৷ বহু দেশ এখনও গবেষণা চালাচ্ছে এই গ্রহের উপর৷ মঙ্গলযানের মধ্যে দিয়ে ডানা মেলেছে ভারতের মহাকাশ চর্চা। একাধিক গবেষণায় নতুন নতুন তথ্য উঠে এলেও মঙ্গলকে ঘিরে থাকা রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি।

মানব মস্তিষ্কে কল্পনা আর বিজ্ঞানের সহাবস্থান ঘটেছে। তাই বিজ্ঞান যেখানে অপারগ, কল্পনা সেখানে নিজের রঙে এঁকে নেয় অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর। তাই কল্পবিজ্ঞানকে আশ্রয় করেই পরিস্ফুট হয়েছে মঙ্গলের জীবজগৎ। পার্থিব জীবের সঙ্গে মঙ্গলের জীবের অবয়বগত বৈসাদৃশ্য অনেক। তাদের সমাজ সংস্কৃতি সভ্যতা এবং ভাষা আলাদা।

থিম শিল্পী অসীম পাঁজা জানান, আমরা এই থিমের মাধ্যমে দেখাতে চাই আগামীদিনে আমাদের এই প্রতিবেশী গ্রহ কী আমাদের বিকল্প বাসস্থান হয়ে উঠবে৷ নাকি মঙ্গল থেকে যাবে চির রহস্যময় গ্রহ হিসেবেই!

মণ্ডপে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কাগজ, বাঁশ, চট, পাটের দড়ি, থার্মোকল, পরিবেশ বান্ধব ভেষজ রঙ। মণ্ডপের অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হল পরিবেশ বান্ধব। ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অর্ণব হাজরা বলেন, মণ্ডপের প্রবেশ পথেই থাকছে প্রায় ৩০ ফুটের বিশাল রকেট। এই যানে চড়েই কল্পনার জগতে পাড়ি দেবেন দর্শনার্থীরা৷ পা রাখবেন স্বপ্ন-মঙ্গলের মাটিতে।

আর সেখান থেকেই দেখা যাবে আমাদের পৃথিবীকে। জগৎজননী মা সেই পৃথিবী জুড়েই যেন অধিষ্ঠান করছেন। দর্শনার্থীরা ঠাকুর দেখতে এসে নতুন কিছু দেখবেন। পুজোর উদ্বোধন হবে তৃতীয়ার সন্ধ্যায়। পুজো উপলক্ষে থাকছে নানান সমাজসেবামূলক অনুষ্ঠান৷