সুমন আদক, হাওড়া: এখন ভরা বর্ষা৷ তবে বর্ষা মানেই শরতের আগমনীবার্তা৷ আর শরৎ মানেই মা আসছেন৷ চারদিকে পুজো পুজো গন্ধ৷ তবে প্রতিমাশিল্পীদের জন্য কিন্তু ইতিমধ্যেই ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে৷ প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে৷ আর যেসব মূর্তি কলকাতা থেকে সুদূর বিলেতে পাড়ি দেবে তাদের অধিকাংশ ইতিমধ্যে রওনাও দিয়ে দিয়েছে৷ বাকিরা রওনা হল বলে!

যেমন হাওড়ার বৈষ্ণবপাড়া পঞ্চাননতলা৷ সেখানকার শিল্পী সৈকত বসুর স্টুডিওতে তৈরি হচ্ছে ১০ ফুটের ফাইবারের দুর্গা প্রতিমা৷ এই প্রতিমা হাওড়া থেকে পাড়ি দেবে সুদূর আয়ারল্যান্ডে৷ সেখানকার ডাবলিন শহরের সুজান ক্লাবের মণ্ডপে এবার শোভা পাবে বাংলার এই শিল্পীর হাতের ছোঁয়া৷

হাতে আর মোটে সময় নেই৷ আগামী ১৫ জুলাই জাহাজে চড়ে এই ফাইবারের দুর্গা প্রতিমা পাড়ি দেবে ডাবলিনের পথে৷ রাতদিন এক করে এখন প্রতিমার ফিনিশিং টাচে ব্যস্ত গর্ভমেন্ট আর্ট কলেজের ছাত্র সৈকত বসু৷ এতদিন বিভিন্ন মণ্ডপে থিম শিল্পী হিসাবে কাজ করেছেন সৈকত৷ এবছরই প্রথম প্রতিমা তৈরি করছেন তিনি৷ তাঁরই এক বন্ধুর খুব কাছের একজন থাকেন আয়ারল্যান্ডে৷

 

সেখানকার একটি বাঙালি কমিউনিটির পুজোকমিটি এবার প্রতিমা নিয়ে যাচ্ছেন হাওড়া থেকে৷ তবে এই প্রতিমা নেওয়ার আগে বেশ অনেক ক’টা ধাপ পার করতে হয়েছে শিল্পীকে৷ সৈকত নিজেই জানালেন সে কথা৷ এই ফাইবারের দুর্গা প্রতিমা কীভাবে তৈরি হবে, প্রতিমা কেমন দেখতে হবে সেই ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে প্রথমে সৈকতবাবুর কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়৷ সেইমতো ছবি এঁকে প্রথমে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সুজান ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সৈকত৷ এরপরই আসে পাকাপাকি অর্ডার৷

হাওড়ায় নিজের স্টুডিওতেই তৈরি হচ্ছে সেই প্রতিমা৷ এখন চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি৷ মোট আটটি ভাঁজে দুর্গা প্রতিমা তৈরি হচ্ছে৷ জাহাজে চেপে আয়ারল্যান্ডে পৌঁছানোর পর সেখানে মণ্ডপে কীভাবে প্রতিমা ফিট করা হবে তার সবটাই অনলাইন নির্দেশিকায় জানাবেন সৈকত৷

সৈকত ছাড়াও তাঁর সহযোগী হিসাবে রয়েছে আট শিল্পী৷ চার মাস ধরে তৈরি করেছেন এই Exclusive দুর্গা৷ সৈকত জানালেন, এই প্রতিমা তৈরিতে আয় সামান্য হলেও যে অভিজ্ঞতা হচ্ছে তা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে৷ আরও ভালও কাজ করতে পারবেন বলেই আশাবাদী শিল্পী৷ এই প্রতিমা তৈরি করতে সৈকত ব্যবহার করেছেন সীসাবিহীন রং৷ মেনে চলা হয়েছে পরিবেশ দূষণ বিধিও৷ পুজোর পর এই ফাইবারের তৈরি প্রতিমা সেখানকার সংগ্রহশালায় রেখে দেওয়া হবে৷

আর দিন কয়েকের অপেক্ষা৷ রথের রশিতে টান পড়তেই বাংলা ছেড়ে সৈকতের দশভূজা সপরিবারে পাড়ি দেবে সুদূর আয়ারল্যান্ডে৷ এক শারদ-সকালে ডাবলিনে ১০৮ পদ্মের মালায় সেজে উঠবে হাওড়ার উমা৷ আলোর বেণু বেজে উঠবে লিফি নদীর পাড়ে৷ এনআরআই বাঙালির সঙ্গে দুর্গার বন্দনায় মাতবে বার্নাড শ’র দেশের মানুষও৷