দেবযানী সরকার, কলকাতা: বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশ্বভারতীর চৌহদ্দি সেজে ওঠে তাদের নিজস্ব ঘরানার আলপনায়। সেই শান্তিনিকেতনি আলপনা এবার শোভা বাড়াবে বেহালার এসবি পার্কের পুজো মণ্ডপের। এবছর তাদের থিম ‘আবাহনে আলপনা’। গোটা মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে লোহায়।

ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ আলপনা। পুজো-পার্বণে হিন্দু বাঙালি বাড়ির চৌকাঠ, উঠোন, সদর দরজা সেজে ওঠে আলপনায়। তবে সেগুলো মূলত ব্রত নির্ভর।

রবীন্দ্রনাথের ইচ্ছায় আলপনায় নতুন ধারা এনেছেন নন্দলাল বসু, সুকুমারী দেবী, গৌরী ভঞ্জ, বিজয়া মিত্র, যমুনা সেনের মত শিল্পীরা। যে ধারা এখনও চলছে বিশ্বভারতীতে। হলকর্ষণ, বর্ষমঙ্গল, পৌষপার্বন, বসন্তোৎসবের মত অনুষ্ঠানগুলিতে ছাতিমতলা ও বিশ্বভারতীর বিভিন্ন ভবন এখনও সেজে ওঠে তাদের নিজস্ব ঘরানার আলপনায়। দেবী দুর্গার আবাহনে রবীন্দ্র ঘরানার আলপনাই এবার এসবি পার্কের চমক। শিল্পী পার্থ দাসগুপ্তর ভাবনায় বিশ্বভারতীর অধ্যাপক তথা প্রখ্যাত শিল্পী সুধীরঞ্জন মুখোপাধ্যায় এই দুর্গামণ্ডপে আলপনা আঁকছেন।

এবছর ৪৯ তম বর্ষে পড়েছে এসবি পার্কের পুজো। পুরো মণ্ডপটাই তৈরি হচ্ছে লোহা দিয়ে। পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা অমিত ঘোষ জানিয়েছেন, ৫৫ টন লোহা ব্যবহৃত হচ্ছে মণ্ডপ তৈরিতে। পুজোর বাজেট ৬৫ লক্ষ টাকা।

শিল্পী পার্থ দাশগুপ্ত বলেন, ” দর্শনার্থীরা যখন মণ্ডপে প্রবেশ করবেন তখন চারপাশটা অত্যন্ত কর্কশ মনে হবে। যেটা শহুরে পরিবেশে মনে হয়। কিন্তু যখনই মূল মণ্ডপে তাঁরা প্রবেশ করবেন তখনই স্নিগ্ধতা অনুভূত হবে। মন শান্ত হয়ে যাবে।” এখানে দেবীমূর্তির শাড়ি ও অলংকার সবই হচ্ছে শান্তিনিকেতনি আলপনার আঙ্গিকে। মণ্ডপে বাজবে রবীন্দ্রসংগীত।

সারা বিশ্বে নিজের জ্ঞান প্রসার করতে চাইতেন রবীন্দ্রনাথ। কোনও দিনই তিনি শান্তিনিকেতনের ভিতর কিছু আটকে রাখতে চাননি। তাই বিশ্বভারতীর আলপনার ছোঁয়া শারদোৎসবে দিতে পেরে কলাভবনের দুই প্রাক্তনীয় গর্বিত।