বাসুদেব ঘোষ, মহম্মদ বাজার: দেবী দশ ভূজার পরিবর্তে এখানে উমা চতুর্ভূজা সিংহবাহিনী রূপে পূজিত হন মহম্মদ বাজারে অন্তর্গত লোহা বাজারে বনিক পাড়া।

প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো এই পুজো, ১২৭০ বঙ্গাব্দ এই পুজোর সূচনা করেছিলেন বনিক পরিবারের দুই ভাই পূর্ণানন্দ সাধু ও মহানন্দ সাধু। এই প্রতিমার চতুর্ভুজ হওয়ার পিছনে রয়েছে একটি ইতিহাস।

ববিক পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে , পূর্ণানন্দ সাধু ও মহানন্দ সাধু দুজনেই ছিলেন মৃৎশিল্পী। সেই সময় তারা দেবী দুর্গাকে কালী বেশে পুজো করতে চেয়েছিলেন এবং সেই সময় তারা নিজেরাই দেবীর এমন চতুর্ভূজা রূপ দেন সেই থেকেই এখানে দেবী দশভূজা নয় চতুর্ভূজা রূপে উমা পূজিত হন।

দেবীর পদতলে বাহন সিংহ এখানে নরসিংহ রূপে পূজিত হয়, মুখটা ঠিক সিংহের মত নাকটা মানুষের মত মাথায় কেশর এর বদলে জটা। মূলত এখানে সাও মতে দেবীর পুজো করা হয়।

এখানে মায়ের ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী দিন নিরামিষ ভোগ এবং অষ্টমী সন্ধিক্ষণে মায়ের কাছে সাদা পাঁঠা দিয়ে বলি দেওয়ার রীতি রয়েছে। বর্তমানে এই প্রতিমা মূলত মৃৎশিল্পী গদাধর সূত্র ধর তৈরি করে আসছেন।

বর্তমানে এই পূজার ভার সামলাচ্ছেন উদয় ভানু সাধ। উদয় ভানু সাধু জানান , প্রায় দীর্ঘদিন ধরেই এই রীতি মেনেই পুজো হয়ে আসছে। মা মূলত এখানে দশ ভূজার পরিবর্তে চতুর্ভূজা রূপে উমা পূজো পেয়ে থাকেন। বংশ পরম্পরায় এই পুরনো রীতি মেনেই হয়ে আসছ।

এখনো একাদশীর দিন নহবত, বাজনা বাজিয়ে মাকে গ্রাম ঘুরিয়ে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়।