শর্মিতা ভট্টাচার্য: বঙ্গে কাশের দোলা৷ কিন্তু সেখানে কাশফুল স্বপ্ন৷ তাতে কী? বঙ্গভূমে দুর্গা আরাধনার মতোই প্রবাসেও উন্মাদনা৷ সাত সাগর তেরো নদীর দেশে-দেশে চলছে শারদোৎসব৷ দেবী বন্দনায় মাতোয়ারা বিশ্বজনীন বাঙালিরা৷ মার্কিন মুলুক থেকে সামুরাই দেশ জাপান ধরা পড়েছে সেই ছবি৷ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও একই ছবি৷

মন পড়ে আছে বাড়িতে, কিন্তু উপায় কি? বাংলার শারদোৎসবে তো আর বিলেতে ছুটি মিলবে না৷ তবু তো ইচ্ছে হয় ঢাকে কাঠি পড়ার আওয়াজ শুনতে কিংবা সকলে মিলে অঞ্জলি দিতে৷ তাই প্রবাসী বাঙালি ক্লাবের উঠোনে চলছে দেবী বন্দনা৷ এই ছবি লন্ডনেও যা, বার্লিনেও তেমন৷ প্যারিস, রোম, জুরিখ সহ ইউরোপের সর্বত্র৷ বাঙালি যেখানেই যায় না কেন সেখানেই তৈরি করে ফেলেন একটা বাঙালি পাড়া৷ ব্যস্ততার মাঝেও এই সমস্ত উৎসব পার্বণে মেতে ওঠার কেন্দ্র সেখানেই৷ তাই তো মা দুগ্গা পাড়ি দেন বিদেশে৷ শুধু ইউরোপের ছবি এমন নয়, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াতেও একই দৃশ্য৷ প্রাচ্যের চিন-জাপানেও বাঙালি মহল্লাতে পুজো চলছে রমরমিয়ে৷

নির্ঘণ্ট মেনে যে পুজো হয় তা নয়৷ তাতেও তো উৎসবের আমেজ থাকে৷ তবে ভারত সেবাশ্রম বা রামকৃষ্ণ মিশেনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলির কথা আলাদা৷ তাদের পুজো পঞ্জিকা মতেই সম্পন্ন হয়ে থাকে৷

শুধু বাঙালিরাই নয়৷ এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন সাহেব-মেমরাও৷ তারাও বাঙালি সাজে এসে এই আনন্দ ভাগ করে নিতে চান৷ সাহেবি আদবকায়দা ছেড়ে এই চারটে দিন পুরাদস্তুর বাঙালি হয়ে ওঠে আবার বিদেশে থাকা বাঙালিরা৷ ধুতির কুচি হাতে আর শাড়ি পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসে বাঙালিরা৷ সেই দৃশ্য দেখলে মনে হবে সকলের সঙ্গে সকলের যেন দীর্ঘকালের পরিচয়৷ কেউ ঢাকিকে সরিয়ে নিজেই হাতে কাঠি আর কাঁসর ঘণ্টা তুলে নিচ্ছে৷ আবার কেউ বাজারের থলে নিয়ে বাজারে দৌড়চ্ছে৷

একইসঙ্গে থাকে ভুরি ভোজের ঢালাও আয়োজন৷ থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও৷ এই চারটে দিন দেদার খানা পিনা মস্তিতে কাটিয়ে ফের চিরাচরিত রুটিনে ফিরে যায় প্রবাসী বাঙালি৷ পুজো শেষ হলেই ফের ঘুমু ঘুমু চোখে ইঁদুর দৌড় শুরু৷ অপেক্ষা পরের বছরের জন্য৷