প্রত্যেক বছরের মত এবারও মা এসেছেন কৈলাস থেকে। তবে প্রত্যেক বার ভিন্ন ভিন্নভাবে মায়ের আগমন ঘটে। কোনোবার তিনি আসেন নৌকায়, আবার কখনও দোলা। পুরাণ মতে এই পৃথক পৃথক আগমনের বিশেষ কিছু তাৎপর্য আছে।

বৃহস্পতিবার পঞ্চমী। কার্যত শুরু হয়ে গিয়েছে বাঙালির পুজো। এবার মা দুর্গা এসেছেন ঘোড়ায়। ঐতিহ্য পরম্পরা মেনে সেই বাহনের বিচারে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় যে মায়ের গমন ও আগমনে কী ফল উঠে আসতে চলেছে। ঘোড়ায় মায়ের আগমন মানেই হল ফল ছত্রভঙ্গ। তাতে সমস্ত কিছু ওলট পালট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পণ্ডিতদের দাবি, এই ঘোড়ায় আগমন শুভ নয়।

৮ অক্টোবর বিজয়া দশমী। আর মায়ের গমনও এবার ঘোটকে, অর্থাৎ ঘোড়ায়। ঘোড়ায় এই গমন মোটেও ভালো ফল নয় বলে দাবি শাস্ত্রজ্ঞদের। এতে সামাজিক অস্থিরতা ও সাংসারিক সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চারটি বাহনে দেবীর আসা-যাওয়ার কথা বলা হয়ে থাকে, সেগুলি হল — অশ্ব, হস্তী, নৌকা এবং দোলা।

সাধারণত দেখা যায় কোনও একটি বাহনে দেবীর আগমন এবং অন্য একটি বাহনে তাঁর গমন হয়। অবশ্য কোনও কোনও বছরে দেবীর আগমন এবং গমন একই বাহনে ঘটে। সেই সব বছর মানবসমাজে বিশেষ অঘটন ঘটার আশঙ্কা থাকে বলে মনে ধরা হয়।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক দেবীর কোন বাহন কিসের বার্তা দিচ্ছে:
হস্তী: এই বাহন শুভর প্রতীক। যে বছর হস্তীতে আগমন হয় দেবীর সেই বছর তাঁর আশীর্বাদে মানবজীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নৌকা: নৌকায় যে বছর আসেন দেবী, সেই বছর একদিকে যেমন বন্যার ইঙ্গিত তেমনই কৃষি-সমৃদ্ধির বার্তা দেয়।

দোলা: মহামারীর প্রতীক। বিশ্বাস অনুযায়ী, দোলায় যে বছর আসেন দেবী, সেই বছর মানুষ যদি একে অন্যের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলেই একমাত্র এই মহামারীকে রোখা সম্ভব।
অশ্ব বা তুরঙ্গ: দেবীর অশ্ব বা তুরঙ্গে আগমন রাজনৈতিক সামাজিক অস্থিরতা ঘোরতর সর্বনাশের ইঙ্গিত দেয়।