সুমন বটব্যাল:  আজ পঞ্চমী৷ পঞ্জিকা মতে এবার পঞ্চমী থেকেই দেবী বরণের পর্ব শুরু৷ রাজ্যের সর্বত্র এই ছবি ধরা পড়ছে৷ শারদোৎসবে বাংলা মুখরিত৷ সেই রেশ ধরেই প্রতিবেশী বৃহত্তর বাংলা, দূরের ত্রিপুরা-শিলচরে উৎসব মেজাজ৷ শারদ শুভেচ্ছার বার্তা বইছে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-পদ্মায়৷

ঢাকে কাঠি-কাশের দোলায় মেতে দেবীর অকাল বোধন এবার আক্ষরিক অর্থেই অকালে হচ্ছে৷ পঞ্জিকা মতে পুজো এগিয়ে আসায় শরতের সুবাস এখনো তেমন লাগেনি৷ তবুও শারদোৎসবে মেতে উঠেছে বাঙালি৷ বিশ্বজনীন এই আবহ৷

শুধু তিলোত্তমা নয়, মফঃস্বলেও দ্বিতীয়, তৃতীয়া থেকেই পুজো উদ্বোধনের হিড়িক৷ মহানগরের হাতিবাগান হোক বা জেলার শিল্পনগরী হলদিয়া সর্বত্রই উৎসবের মেজাজ৷ শ্রেষ্ঠ উৎসবকে কেন্দ্র করে পঞ্চমী থেকে হুজুগে বাঙালির জনজোয়ার ছড়াচ্ছে শিলিগুড়ি থেকে কলকাতায়৷

পুজোর আগের শেষ রবিবার অর্থাৎ চতুর্থীর দিন মণ্ডপে ভিড় করেছিলেন অনেকে৷ আবার কেনাকাটা ছিল তুঙ্গে৷ শপিং মল, স্পা, রেস্তোরাঁ সর্বত্রই মানুষে মানুষে ছয়লাপ৷ চেহারায় ‘আপডেট’ আনতে সকলেই যে মুখিয়ে৷ সল্টলেকের বেশ কিছু স্পা তে তো দেখা গেল, ‘ডিউটিরতা’ উঠতি তরুণীদের৷ এমনই এক তরুণীর সহাস্য মন্তব্য, ‘‘সময় তো আর নেই বললেই চলে৷ তাই ডিউটি আওয়ার্সেই বসকে ম্যানেজ করে এক ঘণ্টার জন্য চলে এসেছি!’’

চতুর্থীর সন্ধেতেই উল্টোডাঙার হাডকো মোড় কিংবা রাসবিহারী অ্যাভিনিউ সর্বত্রই গাড়ির লম্বা লাইন৷ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ধরে জনসমুদ্র ঠেলে শ্লথ গতিতে গড়াচ্ছে গাড়ির চাকা৷ স্বাভাবিকভাবেই পঞ্চমীর সন্ধে থেকে জনসমুদ্রের পারদ আরও চড়বে৷

স্বামীর সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন বারাসতের ‘কর্পোরেট’ বধূ দীপাঞ্জনা চৌধুরী৷ দেশপ্রিয় পার্কের ভিড়টা ঠেলে সামনে এগতে এগতে বললেন, ‘‘অষ্টমীতে ঝাড়খন্ড যাচ্ছি ঘুরতে৷ তাই হাতে তো আর সময় নেই৷ বেরিয়ে পড়েছি প্রধান প্রধান মণ্ডপগুলো দেখতে!’’

কেউ থাকবেন বাড়িতে৷ কেউ প্রবাসে৷ কারও কাছে দুর্গা আরাধনা৷ কেউ নিখাদ ছুটির আমেজ নিয়েই কাটাবেন৷ আর যারা, জরুরিকালীন পরিষেবায় যুক্ত তাদের তো কর্মস্থলেই পুজোর আনন্দ৷ এসব নিয়েই শারদোৎসব৷ সেই উৎসবের রঙ স্পর্শ করুক সকলকে৷