সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : বড় বড় ক্লাবের পাশাপাশি এবার বনেদি বাড়ির পুজোতেও আসছে বড় পরিবর্তন। কিন্তু শোভাবাজার রাজবাড়ির কোনও পক্ষ থেকে এতদিন কিছু জানানো না হলেও এবার তাঁদের পুজোতেও আসছে বড় পরিবর্তন। প্রতিমায় আসছে পরিবর্তন। এক চালায়, তবু মায়ের সঙ্গে দুরত্বে থাকবেন সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্ত্তিক গনেশ। একপ্রকার তাঁদের প্রতিমায় চলে আসছে ফিজিক্যাল ডিস্টেন্সিং। এমনটাই জানা যাচ্ছে শোভাবাজার রাজবাড়ি ছোট তরফ সূত্রে।

রাজবাড়ির পক্ষে জানানো হয়েছে, এই বছর তাঁদের প্রতিমা আলাদা আলাদা ভাবে তৈরি হবে। ২২৭ বছরে ধরে একচালায় একসঙ্গে তৈরি হয়েছে দুর্গা, মহিষাসুর, সিংহ সহ সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্ত্তিক গনেশ। কিন্তু এতেই আসছে পরিবর্তন। একচালায় থাকলেও আলাদা আলাদা ভাবে তৈরি হবে সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্ত্তিক গনেশ। তাঁরা একটু দূরে দূরে থাকবেন মায়ের থেকে। পাশাপাশি পুরো মূর্তির আকার ও ওজনেও আসছে পরিবর্তন। কেন এমন পরিবর্তন? রাজবাড়িত তরফে জানানো হয়েছে, সব মূর্তি একসঙ্গে থাকলে নিরঞ্জনের সময় সবাই একসঙ্গে থাকবে। বর্তমান সময়ের নিরিখে এটা ঠিক নয়। এতে নিরঞ্জনের অসুবিধা হবে। তা ছাড়া একসঙ্গে মূর্তি থাকার জন্য প্রচুর ওজন বেশি হয়। আলাদা আলাদা তৈরি হলে। নিরঞ্জনের সময় ভাগ ভাগ করে নিয়ে গেলে নিরঞ্জনের সুবিধা হবে বাড়ির সদস্যদের, কারণ তাঁরা নিজেরাই প্রতিমা কাঁধে করে নিয়ে যান গঙ্গায়। শুধু এটুকুই নয় অতিমারির জন্য শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে ঢাক ঢোল কাঁসর বাজবে না লাইভ। কারণ তাঁরা অন্য জেলা থেকে। তার বদলে ডিজিটাল ঢাক ও সানাইয়ের রেকর্ডিং শোনা যাবে রাজবাড়িতে। তবে তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এতে কোনও কাটছাঁট কর হবে না। বিসর্জনের সময় মাঝগঙ্গায় নৌকায় করে প্রতিমা নিয়ে গিয়ে বিসর্জন দেওয়ার রীতি এবার বদলাবে। ট্রলির সাহায্যে প্রতিমা বিসর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ ওই শোভাযাত্রা করলেই মানুষের ভিড় বেশি হয়। তার বদলে অন্যান্য পুজোয় যেমন ঘাটে ঘুরিয়ে বিসর্জন হয় তেমন সাধারণ ভাবে হবে বিসর্জন। এতে প্রচুর কুলির প্রয়োজন হবে না।

ঠাকুরের ভোগেও এলাহি আয়োজন থাকে প্রতিবার রাজবাড়িতে। প্রায় ২৫ ধরনের মিষ্টি তৈরি করা হয় রাজবাড়ির নিজস্ব ভিয়েনে। কিন্তু ময়রা ও ঠাকুরের সংখ্যা কমছে এবার। সেইসঙ্গে মিষ্টান্ন ও ভোগের সংখ্যাতেও কাটছাঁট হচ্ছে। বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা আইডি কার্ড ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেটাও ৬৪ জনের জন্য করা হয়েছে। সোজা কথায় বেশি সমাগম করতে চাইছে না রাজবাড়ি। তাতে যদি রীতিতে একবছর পরিবর্তন হয় তাতেও রাজি কিন্তু সরকারি বিধির আগেই নিজেরাই নিজের মতো করে নিজেদের সুরক্ষা বজায় রাখতে বানিয়ে ফেলেছেন সুরক্ষা বিধি।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও