প্রতীতি ঘোষ, আশোকনগর : করোনার কারণে মন ভালো নেই কারও। আর সবার মতোন একই অবস্থা উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগরের মানিকতলার বাসিন্দা কিশোর সুমিত বড়ালেরও। কারণ, করোনার কারণে এবছর আর বোনকে নিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরোনো হবে না।

তাই বোনের আব্দার মেটাতে দাদা বাড়িতেই বসেই তৈরি করে ফেলেছেন এক ফুট উচ্চতার মা দুর্গা ঠাকুর। মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই বছর ১৫ এর সুমিত বড়াল হাতে তুলে নিয়েছিল রং তুলি। বাবা মায়ের হাত ধরেই এত বছর মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দেখেছে সুমিত ও তার বোন।

কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই করোনা আবহের কারণেই সব যেন আজ ফিকে হয়ে উঠেছে। সুমিতের চোখে বিগত বছর গুলিতে ঠাকুর দেখতে যাওয়া এবং পুজোর কটাদিনের আনন্দের সব স্মৃতি যেন অতীত হয়ে চোখের সামনে ভাসছিল। মন ভালো ছিল না সুমিতের বোন শ্রেয়শীরও।

এবছর ঠাকুর দেখতে যেতে পারবে না বলে মন ভার রয়েছে ষাটোর্ধ্ব ঠাকুরদা ও ঠাকুরমার।কিন্ত মন খারাপের সব অন্ধকার যেন মুছে গেল সুমিতের তুলির টানে। মাত্র ১৫ দিনের চেষ্টায় তৈরি হল এক ফুট উচ্চতার মা দুর্গার প্রতিমা।

দশম শ্রেণীর পড়ুয়া সুমিত জানিয়েছেন, প্রতিমা তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠের কাঠামো,বিচুলি,মাটি,রং,তুলি , কুমরটুলি থেকে নিয়ে আসা হয়েছে মা দুর্গার শাড়ি ও মায়ের দশ হাতের অস্ত্র।

কিশোর প্রতিমা শিল্পী সুমিত আরও বলেন, বোনের আব্দার এবং বয়স্ক দাদু ঠাকুরমার কথা ভেবেই এই ঠাকুর তৈরি করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবছর বাইরে কোথাও ঠাকুর দেখতে যাওয়া হবে না তাই পরিবারের কথা ভেবেই এই ঠাকুর তৈরি করা হয়েছে।

সুমিতের তৈরি মা দুর্গার প্রতিমাতেই এবছর পুজো হবে বড়াল বাড়িতে। সুমিতের এহেন উদ্যোগে খুশি তাঁর পরিবার।

সুমিত এর আগেও মজার ছলে বিগত বছর গুলিতে লক্ষ্মী ঠাকুর, সরস্বতী ঠাকুর তৈরি করেছিল তবে এই প্রথম দুর্গা ঠাকুর তৈরি করলো। বোনের মুখে হাসি দেখে খুশি সুমিত নিজেও।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।