সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : মা কারও একার নয়। মা তো সবার। সিনেমাটিক মনে হচ্ছে। স্বাভাবিক। কিন্তু ওঁরা যা করলেন তা কোনও সিনেমার চমকদার ডায়লগ নয়। বাস্তবে বিভিন্ন স্থানের মাটি নিয়ে এলেন এক স্থানে। করলেন খুঁটি পুজো। সেই মাটি স্যানিটাইজ করে তৈরি হল দুর্গার মুখ। এমন কাণ্ডটি ঘটিয়েছে ভবানীপুর চক্রবেড়িয়া সার্বজনীন।

সবার স্থানের মাটি। তালিকা বেশ লম্বা। হিন্দু , মুসসিম, শিখ, খ্রিষ্টান সমস্ত ধর্মস্থানের মাটি তো ছিলই। সঙ্গে তাঁরা এনে হাজির করেছিলেন রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দলের মাটি। তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস সবাই ছিল সেই তালিকায়। সঙ্গে আবার রাখা হয়েছিল সোনাগাছির মাটিও। পাশাপাশি পড়শি বিভিন্ন ওয়ার্ডের মাটি। সবগুলি মিলিয়ে তৈরি হল এক মণ্ড। সেই মণ্ড থেকে এক ফালিতে বসল খুঁটি পুজোর বাঁশ। আর বাকি থাকা বিশাল মাটির তালকে আগে করা হল স্যানিটাইজ। করোনাকালে যা ম্যান্ডেটরি। গঙ্গা মাটি স্যানিটাইজ করে একদম পরিশুদ্ধ। তারপর তৈরি হল দুর্গা মুখ। একদিকে খুঁটি পুজো চলল। পাশেই নিউ নর্মালের ‘শুদ্ধ’ মাটি দিয়ে তৈরি হল দেবীর মুখমণ্ডল।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শৈবাল রায় চৌধুরী বলেন , ‘সবাই মিলে একসঙ্গে আমাদের লড়তে হবে। এই সময় সেই কথাই বলছে। এই পরিস্থিতিতে একটা বড় পুজোকে ধরে রাখতে গেলেও সমাজের সবার হাত লাগবে। সেই বার্তা দিতেই সবার ঘরের মাটি এনে আমাদের পুজোর খুঁটি পুজো করা হয়েছে। সেই মাটি দিয়েই আবার তৈরি হল মায়ের মুখ।’ আরশি আজম নামের এক পুজো উদ্যোক্তা বলেন , ‘মনুষ্যত্ব সবার আগে। সবাই মিলে পুজোটা করছি। এখানে কোনও রঙ, রাজনীতি, ধর্ম নেই। মহামিলনের বার্তা দিতেই এই পুজো। তাতেই আমরা অংশ নিয়েছি।’

স্থানীয় কাউন্সিলর অসীম কুমার বোস বলেন , ‘কোন ধর্মের, কোন বর্ণের, কোন বর্গের বা কোন রাজনৈতিক দলের এই ভাবনাকে সম্পূর্ণ দূরে ফেলে দিয়ে এই ভাবনা। আর এখন তো একসঙ্গে কাজ করারই সময়। সবাই সবার পাশে অন্যরকম ভাবে থাকতে হবে। পাশাপাশি থিমের বিষয় ভাঙা গড়ার খেলা। যে তাণ্ডব চলছে দেশ জুড়ে মানুষ অনেক ভাবে ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থা থেকেই নতুন ভাবে গড়ার বার্তা দেওয়া।’

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।