সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : বাড়িতে বসেই দুর্গা ঠাকুর দর্শন। এতো পুরনো ঘটনা। টিভি খুললেই খবরের চ্যানেল খুললেই হল। না এরকম নয়। আপনার যেটা ইচ্ছা যখন ইচ্ছা সেই ঠাকুর ঠিক তখনই দেখতে পাবেন ঘরে বসেই। তাও শুধু কলকাতার নয়। দেশের আঙিনা পেরিয়ে বিদেশের ঠাকুর দর্শন হবে নিজের ইচ্ছে মতো। কী করে? হাতে মুঠোফোনটি রয়েছে কি করতে!

দুর্গাফেস্ট ডটকম খুলবেন ফোনে। ব্যাস আর চিন্তা নেই। করোনাকালে এটাই তো সেরা অপশন। তাই নয় কি? ফোনে ফোনে ঘুরে বেড়ান টালা থেকে টালিগঞ্জ, বেহালা থেকে ব্রিটেন। নো টেনশন , নো ভিড়ভাট্টা। আসলে দেশ-বিদেশের কয়েকশো পুজো এবার একটা ছাতার তলায়। দুর্গা পুজো নিয়ে প্রথমবার তৈরি হয়েছে এই ওয়েব পোর্টাল। যার মূল তত্বাবধানে মন্ত্রী শশী পাঁজা ও দেবাশিষ সেন।

বুধবার শোভাবাজার রাজবাড়িতে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল। মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন , ‘পুজোটা করতে হবে। সেটা তো বন্ধ করা যায় না। কিন্তু যে নির্দেশিকা এখনও পর্যন্ত ইঙ্গিত মিলছে সেই অনুযায়ী আমাদের ভাবতে শুরু করতে হবে। সেই ভাবনা থেকেই এই করোনার সময়ে ঘরে বসে কলকাতা থেকে শুরু করে দেশ বিদেশের সমস্ত ঠাকুর দেখা হয়ে যাবে। এতে সামাজিক দুরত্বও বজায় থাকলো আবার। উৎসবের স্বাদ ঘোলে হলেও মিটবে। লাইন দিতে হবে না। শুধু মোবাইলের একটা ক্লিক। চোখের সামনে সেরা সেরা মণ্ডপ ও প্রতিমা। এই সময়ে এর চেয়ে ভালো উদ্যোগ আর কী হতে পারে?’

হিডকোর চেয়ারপার্সন দেবাশীষ সেন বলেন , ‘দুর্গাফেস্ট ডটকম’ বলতে পারেন পুজোর নেটফ্লিক্স বা অ্যামাজন প্রাইমের মতো ওটিটি প্লাটফরম। সিনেমা হলে যেতে হল না, কিন্তু সেরা ছবি নিজের মতো, নিজের সময় অনুযায়ী দেখে নিলেন। আবার এটাও বলা যেতে পারে একটা বড় আর্কাইভ হতে চলেছে এই পোর্টাল। কারণ আজ থেকে অনেক বছর পরে যখন কেউ এই বছরের পুজো খুঁজবে তখন জানতে পারবে সেই বছর কি কাণ্ড করেই না পুজো হয়েছিল। এসেছিল এক অতিমারি, যা বাঙালির সেরা দুর্গোৎসবকে ছোট করেছিল কিন্তু বন্ধ করতে পারেনি। কেমন করে হয়েছিল পুজো? বলে দেবে দুর্গা ফেস্ট.কমের ভিডিও, ছবি, খবর, তথ্য।’

আসলে এটি একটি বেসরকারি একটি সংস্থার মূল ভাবনা। হিডকোর যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় কাজ। পুজোর আরতি থেকে অষ্টমীর অঞ্জলি, বোধন, সন্ধি পুজো সবই অনালাইনে দেখানোর ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করেছিল এই পোর্টাল, যা বর্তমানে একদম তৈরি। সমস্ত পুজো কমিটি তাদের ইতিহাস এবং পুজোর ভিডিও আপলোড করছেন এই পেজে। এই ভাবনার মূলে বেসরকারি সংস্থার কর্ণধার ইন্দ্রজিত রায়। তিনি বলেন , ‘অসংখ্য উৎসবমুখর মানুষকে করোনা অতিমারী এবং আমফানের বিপর্যয়ের জেরে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া থেকে বাঁচাতে অনেকটাই অক্সিজেন জোগাবে আমাদের এই কাজ। বিভিন্ন ধরণের পূজাপরিক্রমা তুলে ধরা হবে দুর্গাফেস্টের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলের মাধ্যমে। দেশ, বিদেশ, শহর, মফস্বল সব ধরনের পুজো আমরা দেখাবো এই পোর্টালে।’

একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুজো কমিটিকে পুরস্কৃতও করবে। সেরা বাছবে জনতা। তাঁরা আমাদের পোর্টালে পুজো দেখে রিমার্ক দেবেন। সবথেকে বেশি ভোটের নিরিখে সেরা পুরস্কার দেওয়া হবে।’

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা