স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: মশানজোড় সংকট অব্যাহত৷ সোমবার জট কাটার কোনও সম্ভাবনা তৈরি হল না৷ যদিও জট কাটাতে উদ্যোগ তৈরি হয়েছে বাংলার প্রশাসনের তরফে৷ কিন্তু সেই উদ্যোগে জল ঢেলে দিল ঝাড়খণ্ডের প্রশাসন৷ ভেস্তে গেল বৈঠক৷

এখন অপেক্ষা পরের বুধবারের৷ সেদিন আবার বাংলার দুই সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের দুমকার জেলাশাসকের বৈঠক হওয়ার কথা৷ সেই বৈঠক হলেই জানা যাবে মশানজোড় সংকটের জল কোন দিকে গড়াতে চলেছে৷

আরও পড়ুন: পুলিশের বিরুদ্ধে জয়ের মুখ দেখল ইস্টবেঙ্গল

প্রসঙ্গত, ময়ূরাক্ষীর উপর তৈরি এই ড্যামটি ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত৷ কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত বলে বছরের পর বছর ধরে এই ড্যামের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে বাংলার সরকার৷ এতদিন সব ঠিক ছিল, কিন্তু গোল বাঁধে দিন কয়েক আগে থেকে৷

বাংলার প্রশাসন মশানজোড় ড্যামে নীল-সাদা রং করা শুরু করেছে৷ সেখানে দু’টি ওয়েলকাম বোর্ডও লাগিয়েছে৷ এর পরই বিতর্কের সূত্রপাত৷ মশানজোড়ের লাল-সাদা রং ফেরানোর দাবিতে সরব হয়েছে ঝাড়খণ্ড প্রশাসন৷ বাংলাকে দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওই রাজ্যের এক মন্ত্রী৷ আন্দোলনে নেমেছে ওই রাজ্যের বিজেপি৷ সুর মেলাচ্ছে দলের বঙ্গ-ব্রিগেড৷

আরও পড়ুন: রানওয়ের বদলে ট্যাক্সিওয়ে থেকে বিমানের টেক অফ!!

এই পরিস্থিতিতে সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত প্রশাসনের আধিকারিকরা৷ তাই সোমবার দুমকায় পৌঁছে গিয়েছিলেন বীরভূমের অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) রঞ্জনকুমার ঝা ও সেচ দফতরের ময়ূরাক্ষী ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার কিংশুক মণ্ডল৷

তাঁদের দুমকার জেলাশাসক রাকেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল৷ প্রশাসন সূত্রে খবর, রাকেশ কুমার আজ ওই দু’জনের সঙ্গে দেখা করেননি৷ কারণ, ওই জেলায় এখন শ্রাবণী মেলা চলছে৷ তা নিয়ে ব্যস্ত রাকেশ কুমার৷ সেই কারণেই তিনি দেখা করতে পারেননি৷ বুধবার ওই বৈঠক হওয়ার কথা৷

আরও পড়ুন: স্বামীর ওপর অত্যাচার করেন মৌনি! দেখুন ভিডিও

তবে বাংলার প্রশাসনের একটি সূত্রের বক্তব্য, শুধু মেলার জন্য এই বৈঠক বাতিল হয়নি৷ বরং এর সঙ্গে সেখানকার বিজেপি সরকারের কোনও অভিসন্ধী রয়েছে বলেই মনে করছে প্রশাসনের ওই অংশ৷

কারণ, সংকট না কাটলে নতুন করে রং করার কাজ চালু হবে না মশানজোড় ড্যামে৷ সেক্ষেত্রে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বাংলার সরকারকে৷ কারণ, ১ কোটির টাকার বেশি খরচ করে ওই ড্যাম রং করাচ্ছে বাংলার সেচ দফতর৷ কাজ আটকে থাকলে তারাই সমস্যায় পড়বে৷ তাই ঝাড়খণ্ড সরকার বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখতে চাইছে বলেই মনে করছেন বাংলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের একাংশ৷

আরও পড়ুন: সেনসেক্স নিফটি নব উচ্চতায়