স্টাফ রিপোর্টার, কাঁথি: দিনের পর দিন ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে শংকরপুর মৎস্য বন্দরে ঢোকার মুখের নাব্যতা। আর এর ফলে মৎস্য বন্দরে প্রবেশ করতে পারছে না মৎস্যজীবীদের ট্রলার বা লঞ্চ। ফলে দিনের পর দিন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে মৎস্যজীবীদের। এই সমস্যা নিয়ে বুধবার রামনগরে ১১৬বি দিঘা- নন্দকুমার জাতীয় সড়ক অবরোধ করে অবস্থান বিক্ষোভ করার ডাক দিয়েছেন মৎস্যজীবীরা। যতক্ষণ না মৎসজীবীদের দাবি মানা হচ্ছে ততক্ষণ অবরোধ চালিয়ে যাবেন তারা। এদিকে অবস্থান বিক্ষোভের কারনে বুধবার সকাল থেকে জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সমস্যায় পড়েন নিত্যযাত্রী থেকে পর্যটরা।

জানা গিয়েছে, একসময় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মধ্যে এই শঙ্করপুর মৎস্য বন্দর মৎস্যজীবিদের আনাগোনায় সব সময় গমগম করত। রোজ বহু জায়গা থেকে মৎস্যজীবিরা মাছ ধরে ট্রলার নিয়ে এই বন্দরে এসে উপস্থিত হতেন। কিন্তু বর্তমানে দিঘা মোহনা থেকে শংকরপুর বন্দরে ঢোকার মুখে যেভাবে সমুদ্রের নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে তাতে ট্রলার কিংবা লঞ্চ একেবারেই ঢোকার পক্ষে অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। আর তাই বেশিরভাগ মৎস্যজীবীরা মাছ ধরে শংকরপুর মৎস্য বন্দরে ঢোকার পরিবর্তে তারা আশেপাশের পেটুয়া বন্দর কিংবা ওড়িশার বিভিন্ন বন্দরে গিয়ে পৌঁছাচ্ছেন।

শুধু তাই নয়, শংকরপুর বন্দরের বর্তমান যা পরিস্থিতি তা একেবারে অচল হয়ে গিয়েছে বলা চলে। যে সমস্ত কর্মীরা শংকরপুর মৎস্য বন্দরে মাছ লোডিং, আনলোডিং সহ বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত ছিলেন তারাও বর্তমান পরিস্থিতিতে একেবারে বেকার হয়ে গিয়েছে। অন্য পেশায় নিযুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন বন্দরের কর্মীরা।

তবে যে সমস্ত মাছ বোঝাই ট্রলার বা লঞ্চ শংকরপুর বন্দরে এখনও প্রবেশ করে তাদেরকে বেশিরভাগ সময় চরায় ধাক্কা লেগে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। শংকরপুর ফিশার ম্যান এন্ড ফিস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র নায়েক বলেন, “মোহনায় ট্রলার বা লঞ্চ ঢুকতে গেলে যে পরিমাণ নাব্যতা থাকার প্রয়োজন তা একেবারেই নেই। বারবার আমরা প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। তাই আমরা এই অবস্থানের ডাক দিয়েছি।” শংকরপুর সহ উপকূলবর্তী এলাকা গুলোর বেশিরভাগ মানুষজন মৎস্য কেন্দ্রিক পেশার সঙ্গে নিযুক্ত। যার ফলে শংকরপুর বন্দরের এমন অবস্থা হওয়ায় এই এলাকার অর্থনীতিতে তার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। শংকরপুর বন্দরকে কোনও রকম টিকিয়ে রাখার জন্য এখন দূরের বন্দর থেকে গাড়িতে করে মাছ আনতে হচ্ছে। এর ফলে পরিবহনের ব্যাপক ব‍্যায়ের প্রভাব পড়ছে মাছের উপর। এনিয়ে মৎস্যজীবিরা প্রশাসনের কাছে বারবার ড্রেজিং করার আবেদন জানালেও কোন সুরাহা মেলেনি বলে জানিয়েছেন মৎস্যজীবিরা।

এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক স্বদেশরঞ্জন নায়েক বলেন, “আজকে প্রায় তিন বছর প্রশাসনের কাছে বারবার ড্রেজিংয়ের জন্য আবেদন করা হচ্ছে কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনও রূপ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘায় প্রশাসনিক সফরে এসে তিনি ড্রেজিং এর ব্যাপারে দেখবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার এখনও পর্যন্ত কোনও সদুত্তর মেলেনি।” তবে এ নিয়ে অবশ্য ভিন্নমত পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবব্রত দাসের। তিনি বলেন, “আজ থেকে প্রায় দু’বছর আগে ওই মোহনায় ড্রেজিং করা হয়েছিল। কিন্তু বারবার পলি জমে যাওয়ার ফলে এমন পরিস্থিতি ঘটছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি খুব তাড়াতাড়ি যাতে ড্রেজিং করা যায়।”