কলকাতা: রাজি কেন্দ্র, রাজি ঝাড়খণ্ড কিন্তু নবান্ন এসে আটকে গিয়েছে৷ ফলে এ রাজ্যে ডিভিসি-র রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র যৌথ উদ্যোগে চালানোর পরিকল্পনা এখনও থমকে দাঁড়িয়ে। এদিকে ডিভিসি-র দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্থার প্রতি মাসে ৮০ কোটি টাকা করে লোকসান হচ্ছে অর্থাৎ বছর শেষে অংকটা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১০০০ কোটি টাকায়৷

আগেই ডিভিসি জানিয়েছিল লোকসানের বোঝা কমাতে রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৭৪% অংশীদারিত্ব চেন্নাইয়ের নেভেলি লিগনাইট কর্পোরেশনকে বেচে দিতে চায়৷ সেক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের বাকি ২৪% থাকার কথা ডিভিসি-ঝাড়খণ্ড-পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাতে। এই প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক, ঝাড়খণ্ড রাজি হলেও পশ্চিমবঙ্গ মতামত না জানিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে৷ ফলে সংস্থার লোকসানের বহর বাড়ছে।

বণিকসভা এমসিসি-র আয়োজিত এক আলোচনাসভায় ডিভিসি চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ল্যাংস্টি জানান, ২০১৬-’১৭ সালে সংস্থার লোকসান গুনেছে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা। এ মধ্যে রঘুনাথপুরের জন্য ক্ষতির অংকটাই ৮০০ কোটি। তবে আগের মতো এদিনও ল্যাংস্টির আশা প্রকাশ করেছেন, শীঘ্রই রাজ্যের সবুজ সঙ্কেত মিলবে বলে। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি দিল্লিতে রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বর্তমানে ডিভিসি-র ঘাড়ে রয়েছে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকার ঋণের বোঝা। সেক্ষেত্রে রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৭৪ শতাংশ মালিকানা হস্থান্তর হলে ঋণের দায় কমে যেত এক ধাক্কায় প্রায় ৫০০০ কোটি। কারণ নতুন করে যৌথ উদ্যোগ গড়া হলে নেভেলি ওই ঋণ শোধের দায় নিত৷ ফলে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা সুদের বোঝা কমত। এই পথে এগোতে পারলে ডিভিসি এক বছরের মধ্যে ‘না লাভ-না ক্ষতি’-র স্তরে পৌঁছে যেতে পারে বলে সূত্রের খবর।