স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর এই পার্বণের দিনগুলি যাদের হাতের ছোঁয়ায় সম্পূর্ণ হয়ে উঠে আসন্ন পুজোর বাজারে তাঁদের শিল্পে লেগেছে মন্দা। আর এই মন্দার বাজারে সমস্যায় পড়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মৃৎশিল্পীরা।

সামনেই বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গা পুজো। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতির ব্যস্ততা। আর এই শেষ পর্যায়ের ব্যস্ততা শুরু হয়েগিয়েছে অনেকদিন আগেই কুমোরটুলিতে। যারফলে মৃৎশিল্পীরা এখন রাতের ঘুম উড়িয়ে শেষ পর্বের কাজ করতে চরম ব্যস্ত। সব কাজ প্রায় শেষের পথে এখন শুধু বাকি প্রতিমার গায়ে রঙের প্রলেপ দিয়ে বসন পড়িয়ে বহিরঙ্গের সাজ।

এত ব্যস্ততা সত্বেও মুখভার জেলার মৃৎশিল্পীদের। কারন অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেল, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে প্রতিমার দাম সেইরকম ভাবে না পাওয়ায় অসন্তুষ্ট তাঁরা। সূত্রের খবর, পুজো আসতেই দিনরাত এককরে জোরকদমে প্রতিমা নির্মাণের কাজ করলেও দ্রব্য মূল্যের বৃদ্বির ফলে সেইভাবে প্রতিমার দাম না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত সব ব্যবসায়ীরা। যার জেরে এই শিল্পের উপর আগ্রহ হারাচ্ছে মৃৎশিল্পীরা এবং তাঁদের পরিবারের লোকেরা।

পূর্বমেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট থানার বড়িশা এলাকার মৃৎশিল্পী সমর কাপড়ী জানিয়েছেন,যেভাবে প্রতিমা তৈরির সামগ্রীর দাম বেড়ে চলেছে দিনের পর দিন সেইভাবে এই ব্যবসার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না তাঁরা। কারন হিসাবে সমর বাবু জানিয়েছেন, প্রতিমা তৈরির সামগ্রীর দাম বাড়লেও সেই হিসাবে তারা প্রতিমার দাম পাচ্ছেন না, ফলে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এলাকার মৃৎশিল্পীদের কাজ, সরকার অবিলম্বে এর উপর নজর না দিলে হয়তো হারিয়ে যেতে পারে এই মৃৎশিল্পীদের জীবন যাত্রা।

সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার লোকশিল্পী থেকে ঢাকিদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও মৃৎশিল্পীদের দিকে সেইভাবে সাহায্যের হাত বাড়ায়নি।ফলে দিনের পর দিন সমস্যায় জড়িয়ে পড়ছে মৃৎশিল্পীরা। যার জেরে এখন অনেকেই এই পেশা থেকে বেড়িয়েও আসতে চাইছেন। ফলে এই পেশার প্রতি ক্রমশ আগ্রহ হারাচ্ছেন তাঁরা। আরও জানা গিয়েছে, শুধু প্রতিমা তৈরির সামগ্রীর দামই বাড়েনি, সেই সঙ্গে বর্তমানে প্রতিমা তৈরিতে মাটির পর্যাপ্ত জোগানেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে জেলার মৃৎশিল্পীদের। এত আর্থিক সংকট সত্ত্বেও জেলার বিভিন্ন মৃৎশিল্পীরা বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে যাতে কোন সমস্যা না হয় লাভের মুখ না দেখেও রাতদিন এক করে কাজ করে চলেছে।