কলকাতা : ঠিকমতো না প্রস্তুত না হয়ে তাড়াহুড়ো করে পণ্য ও পরিষেবা কর চালু করা হয়েছিল ৷ আর সেজন্যই স্বল্প মেয়াদের ভিত্তিতে আর্থিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সদস্য তথা দেশের প্রাক্তন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অশোক লাহিড়ী। বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তিনি৷ কারণ হিসেবে সেখানে তিনি সময় জিএসটি নেটওয়ার্ক (জিএসটিএন) সম্পূর্ণ তৈরি না করেই ২০১৭ সালের জুলাইতে জিএসটি চালু করা হয়েছিল৷ যদিও তাঁর মতে, জিএসটি চালু যদি পিছিয়ে যেত, তাহলেও পরিস্থিতির খুব একটা কিছু উন্নতি হত না।

বণিকসভার এই অনুষ্ঠানে অশোক লাহিড়ী জানিয়েছেন, মধ্য থেকে দীর্ঘ মেয়াদের ভিত্তিতে জিএসটি গেম চেঞ্জিং সংস্কার হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু স্বল্প মেয়াদে জিএসটি-র ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে অগোছালো ভাবে তা চালু করলে জন্য আর্থিক সঙ্কট নেমে আসে এবং রাজস্ব আদায়ও অনেক কম হয়। প্রসঙ্গত অনেক বিরোধীরাই তাড়াহুড়ো করে জিএসটি চালু করা নিয়ে সমালোচনা

অর্থ কমিশনের সদস্য জানিয়েছেন,যেখানে ২০১৭ সালে জুলাইতে জিএসটি চালু হচ্ছে সেখানে তার ছয় সপ্তাহ আগেও এই করের হার নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি ৷ তাছাড়া সিজিএসটি, এসজিএসটি ও আইজিএসটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে তখন কোনও নির্দিষ্ট বিধিওবানানো ছিল না। এক প্রকার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়াই জিএসটি চালু করার জন্য তাঁকে এদিন সমালোচনা করতে দেখা গিয়েছে ৷

পাশাপাশি তিনি জিএসটি-র জন্য রাজ্যগুলির ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ নির্ধারণ করার বিরুদ্ধেও তিনি এ দিন সরব হয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য, যেখানে জিএসটি চালু ঘিরে প্রবল অনিশ্চয়তা ছিল সেখানে কেমন করে নয়া কর ব্যবস্থা চালু করার আড়াই মাস আগে দর কষাকষির অঙ্গ হিসাবে জিএসটি ক্ষতিপূরণ আইন ২০১৭ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। জিএসটি চালু হওয়ার পরে রাজ্যগুলির রাজস্ব আদায় কমে গেলে সেই আইনে রাজ্যগুলিকে পাঁচ বছর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।