স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া-তমলুক: আনাহুত অতিথি ফেণীর দেখা মেলেনি৷ তবে তার জেরে শুক্রবার বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গে৷ সারাদিনের অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে মাথায় হাত বিভিন্ন জেলার চাষীদের। বিঘার পর বিঘা জমির ধান আর তিলের জমি জলের তলায়। এখন কিভাবে ওই চাষের দেনা শোধ হবে, সারা বছরের সংসার খরচ চালবে? ভেবে পাচ্ছেন না চাষীরা।

আরও পড়ুন: ফণী তাণ্ডবে তছনছ নোয়াখালী, বঙ্গোপসাগর উপকূলে জলোচ্ছ্বাস

শনিবার সকালে জয়পুর ব্লক এলাকার সাঁইতাড়া, শুকজোড়া, রাজগ্রাম সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, একদিকে বিঘার পর বিঘা ধান জমি যেমন জলের তলায় অথবা পাকা ধান নুইয়ে পড়েছে জমিতে। অন্যদিকে তেমনি শুঁটি আসার প্রাক মুহূর্তে তিল জাতীয় তেল শস্যের জমিতেও জল থৈথৈ৷

জমির ধান ঘরে তোলার ঠিক আগের মুহূর্তে ‘ফণি’র এক ছোবলেই সব ছবি হয়ে যাবে ভাবতে পারছেন না জয়পুরের সাঁইতোড়া, শুকজোড়া, রাজগ্রাম এলাকার কৃষিজীবি মানুষেরা। অন্যদিকে একই ছবি ধরা পড়লো পাত্রসায়রের বেলুট-রসুলপুর এলাকাতেও৷ বিঘার পর বিঘা ধানি জমি জলের তলায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে নালা কেটে জমির জল বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: চিন্তা বাড়িয়ে ফের মিসাইল পরীক্ষা করল কিমের দেশ

বাঁকুড়া জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, এবার ৫১ হাজার ৬১৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছিল। তার মধ্যে ‘ফণি’র সৌজন্যে এক দিনের টানা বৃষ্টিতে এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ঠিক কত জানা না গেলেও সংশ্লিষ্ট চাষীরা যে বিপুল পরিমান আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলেন তা মানছেন সকলেই।

এদিন জয়পুর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক অশোক লুধি জলে ডুবে থাকা ধানের জমি ঘুরে দেখানোর ফাঁকে বলেন, ‘‘ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে আট বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছিলাম। এক দিনের বৃষ্টি সব শেষ করে দিয়ে গেল। এখন ব্যাঙ্কের ঋণ কিভাবে শোধ করব, আর কিভাবে সারা বছরের বিপুল পরিমাণ সংসার খরচ চালাবো তা ভেবে পাচ্ছিনা।

আরও পড়ুন: ফণীর জেরে এক ধাক্কায় ৫ ডিগ্রি কমল পারদ

এই অবস্থায় সরকারী সাহায্য না পেলে ছেলে মেয়ে নিয়ে পথে বসতে হবে।’’ একই কথা বলেন, শুকজোড়া গ্রামের গৌতম প্রতিহার। তিনি বলেন, ‘‘এর আগে শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৮০০ বিঘা ধান জমির ক্ষতি হয়েছিল। এবার বৃষ্টিতে সব লন্ডভন্ড করে দিয়ে গেল। এবার সরকারী সাহায্য ছাড়া কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব।’’

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারী নিয়মানুযায়ী যাতে তারা ক্ষতিপূরণ পান তার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন অংশে ঝড়ের আগে মাইকিং করা হয়েছিল প্রশাসনের তরফে৷ সতর্ক করে বলা হয়েছিল, বৃষ্টি ও ঝড়ের আগেই যেন তুলে নেওয়া হয় মাঠের ধান৷ বেশিরভাগ কৃষক তা করলেও বেশ কিছুঅংশে তা রয়ে যায়৷ ফলে বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায় তা৷ তবে শনিবার রোদ ওঠার পর থেকে মাঠ থেকে ধান তুলতে শুরু করে দিয়েছেন কৃষকরা৷