স্টাফ রিপোর্টার, বনগাঁ: বিশ্বজুড়ে থাবা বসিয়েছে মারণ ভাইরাস। করোনার কাঁটায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব। এদেশেও মারণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ২জন। যদিও এরাজ্যে করোনা সংক্রমণের কোনও খবর মেলেনি। তবুও সবরকম সতর্কতা জারি করেছে রাজ্য সরকার। এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের সচেতনতায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মাক্স বিলি করলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশন স্কুলে গত ১২ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। এবছর গোপালনগরের ওই স্কুলে পরীক্ষার সিট পড়েছে মোট ৫’টি স্কুলের। পরীক্ষার দিনগুলিতে সেখানে জমায়েত হচ্ছে প্রায় ২১৬ জন পরীক্ষার্থী। সঙ্গে থাকছে তাঁদের অভিভাবকেরা।

এছাড়াও রয়েছে কর্তব্যরত পুলিশকর্মী, পাহারাদাররা। ফলে অতিরিক্ত জমায়েতের কারণে কোনও রকম সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেই উদ্দেশ্যে মানুষকে করোনাভাইরাস নিয়ে আরও সতর্ক করে তুলতে, সোমবার স্কুল চত্বরে সকল পরীক্ষার্থী, পুলিশকর্মী, এবং অভিভাবক সহ স্কুলের অন্যান্য কর্মীদের মধ্যে মাক্স বিতরণ করলেন এই স্কুল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জেলার এই স্কুলের এমন পদক্ষেপে খুশি হয়েছেন পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। শুধু তাই নয়, স্কুল কর্তৃপক্ষের এহেন ভূমিকায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে জীবনের দ্বিতীয় বড় পরীক্ষা দিতে আসা সকল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরাও।

এই বিষয়ে ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রতাপ চ্ন্দ্র রায় বলেন, “আমরা স্কুলের নিজস্ব ফান্ড থেকে এই বিষয়ে সতর্কতা মূলক কর্মসূচি গ্রহন করেছি। স্কুলে পরীক্ষা দিতে আসা সব উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সহ স্কুলের সকলের কাছে মাস্ক পৌঁছে দিলাম। করোনাভাইরাস সম্পর্কে যাতে সকলে সতর্ক থাকতে পারে।”

প্রসঙ্গত, গোটা পৃথিবীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এদেশেও দিন-দিন বাড়ছে করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতের মারণ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১১০ ছুঁয়েছে। বিশ্বজুড়ে করোনার বলি ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। প্রকোপ ঠেকাতে বিভিন্ন রাজ্যে ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়েছে স্কুল-কলেজ, থিয়েটার, জিম। খুব বেশি সংখ্যায় মানুষের একত্রিত হওয়ার উপরেও জারি হয়েছে নির্দেশিকা। এরাজ্যেও করোনা সতর্কতায় পড়ুয়াদের ছুটি ৩১ মার্চের থেকে বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।