দিঘা: করোনার সংক্রমণ এড়াতে সৈকতনগরী দিঘা পর্যটকশূন্য়। করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে এমনিতেই আপাতত সব ধরনের বেড়ানোর জায়গাতেই বিধি-নিষেধ রয়েছে। পর্যটকরা নিজেরাও ফের কবে বেড়াতে যাওয়ার আনন্দে মজবেন, তা এখনই বলা মুশকিল।

করোনার থাবায় অন্যান্য ক্ষেত্রগুলির মতোই দারুণ সংকটে পর্যটন ব্যবসা। দিঘাও তার ব্যতিক্রম নয়। অন্য কারবারিদের পাশাপাশি পর্যচকশূন্য দিঘায় ঘোর বিপাকে ঘোড়সওয়ারির ব্যবসায়ীরা। ঘোড়ার খাবার জোগাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।

একসময় পর্যটকদের ভিড়ে গমগম করর সৈকত শহর দিঘা। সৈকতের ধারে ঘোড়ার পিঠে চেপে টগবগিয়ে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। দিঘার এইসমস্ত আনন্দ আজ অন্য এক নস্টালজিয়া। প্রবাদে আছে বাঙালি নাকি ‘ঘোড়া দেখলে খোঁড়া’। ফুল, জরি দিয়ে সাজানো ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘোড়সওয়ারের অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। যা অবশ্য দিঘার খুব চেনা দৃশ্য বলা চলে।

কিন্তু বর্তমানে এই লকডাউনে দিঘার ঘোড়সওয়ারির ব‍্যবসা খুবই সঙ্কটে। বেজায় দুশ্চিন্তায় ঘোড়সওয়ারির ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, লকডাউনের মধ্যে ব‍্যবসা না চলায় ঘোড়ার খাবার জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা তাঁদের। আগে একেকদিন ঘোড়সওয়ারি করে ইনকাম হতো তিন- থেকে চার হাজার টাকা। কিন্তু সেসব লকডাউনে শূণ‍্যতে গিয়ে ঠেকেছে।

ফলে ঘোড়ার দানাপানি জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে ঘোড়সওয়ারি ব‍্যবসায়িরা। ঘোড়াদেরকে এখন আর আস্তাবলে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ছেড়ে দিতে হচ্ছে মাঠে- ঘাটে ঘাস পাতা খাওয়ার জন্য। কিন্তু তাতেও বাড়ছে বিপদ। আস্তাবলের দানাপানি ছেড়ে এভাবে মাঠে- ঘাটে ঘাস- পাতা খেতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বহু ঘোড়া।

দিঘার প্রত‍্যন্ত গ্রামগুলোতে এখন ঢুকলেই চোখে পড়বে সৈকতে টকবগ করা সেইসব ঘোড়াগুলো আজ মাঠেঘাটে চরে বেড়াচ্ছে। সকাল হলেই মালিক দিয়ে যাচ্ছে মাঠে ঘাস খাওয়ার জন্য, আবার সন্ধ্যায় নিয়ে যাচ্ছে আস্তাবলে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? যেভাবে লকডাউন দিনের পর দিন ক্রমশ লম্বা হচ্ছে তাতে ঘোড়াদের পাশাপাশি খাদ‍্য সঙ্কটে পড়ছেন দিঘার ঘোড়সওয়ারি ব‍্যবসায়িরাও।

ঘোড়সওয়ারি ব‍্যবসায়ি সিরাজুল শেখ বলেন, “বংশ পরম্পরায় ঘোড়াসওয়ারির ব্যবসা। রোজগার কমায় পরিবারের অন্যান্যরা ঘোড়ার গাড়ির ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। বাচ্চারা ঘোড়ায় চড়তে ভালবাসে। তাতে যা রোজগার হয় কোনওমতে চলে যেত।

কিন্তু এখন লকডাউনে ব্যবসা বন্ধ থাকায় টান পড়েছে পকেটে।নিজেরাই ঠিকমতো খেতে পাচ্ছি না। ফলে ঘোড়াকেও খাওয়াতে পারছি না। আমাদের দু’টি ঘোড়া ছিল। তাদের ছেড়ে দিয়েছি।মাঠেঘাটে ঘাস খাচ্ছে। এখানে-ওখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ছেড়ে রাখতে গিয়ে, অসুস্থও হয়ে পড়ছে।”

সবমিলিয়ে বলা চলে লকডাউনের জেরে সঙ্কটে আজ দিঘার ঘোড়সওয়ারি ব‍্যবসা। প্রশাসনের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন ব‍্যবসায়িরা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ