লন্ডন: পালিয়ে গিয়েছিলেন দুবাই শাসকের কনিষ্ঠ স্ত্রী হায়া বিনতে আল হুসেন। আদালতে স্ত্রী হায়ার সঙ্গে প্রথম দেখা হল দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ আল মাখতুমের। সন্তানদের নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে দু’জনের মধ্যে।

দুবাই শাসকের কনিষ্ঠ স্ত্রী হায়া বিনতে আল হুসেন সন্তানদের নিয়ে তিনি দুবাই ছেড়েছিলেন। তিনি লন্ডনে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে নিজের জীবন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সম্প্রতি। দুবাইয়ের রাজপরিবারের অধীন থেকে মুক্ত হতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এর আগেও রাজ পরিবার থেকে এইভাবে আরও দি’জনের পালিয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে।

জর্ডানের বাদশা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সৎ বোন শেখ হায়া দর্শন,রাজনীতি ও অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেছেন ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। ৪৫ বছর বয়সী এই রাজকন্যা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিতেও ছিলেন। রাষ্ট্রসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির শুভেচ্ছা দূত হিসেবেও কাজ করেন তিনি।

২০০৪ সালে শেখ মোহাম্মদকে বিয়ে করেন শেখ হায়া।

এমিরেটস উমেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হায়া বলেন, ”আমি সাংবাদিক হতে চেয়েছিলাম। দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকীর প্রতি আমার আলাদা অনুরাগ আছে।”

তাঁর মেয়ে শেখ আল জলিলা ও ছেলে শেখ জায়েদকে নিয়ে সব সময় উচ্ছ্বসিত তিনি। পালিয়ে যাওয়ার সময় সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে যান তিনি। তিনি লন্ডনেই পাকাপাকিভাবে থাকতে চান বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যদি তাঁর স্বামী তাকে দুবাই ফিরিয়ে নিতে চান তাহলে কী হবে সেটা স্পষ্ট নয়। এমনিতে আরব আমিরশাহীর সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। তাই কূটনৈতিক সমস্যা হতে পারে।

হায়া বিনতে হুসেন পালিয়ে যাওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে কবিতা পোস্ট করে তাঁকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দেন দুবাইর শাসক।পরে এই মাসে তার স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, প্রাণের আশঙ্কায় লন্ডনে পালিয়ে আছেন তিনি।

শাসক পরিবারের গোপন কিছু বিষয় জেনে যাওয়াতেই ভয় পাচ্ছিলেন তিনি। শেখ মাখতুমের মেয়ে শেখ লতিফার পালিয়ে যাওয়ার পর রহস্যজনকভাবে দুবাইয়ে ফেরত আসায় তার ভূমিকা রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।