উত্তেজনা ছড়িয়েছে দিল্লিতেও

কলকাতা: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদের আগুন ছড়াল এবার রাজধানী নয়াদিল্লিতেও। নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে রবিবার দুপুরবেলা থেকে দিল্লির রাজপথে কার্যত তাণ্ডব চালায় আন্দোলনকারীরা। প্রতিবাদের নামে অশান্তির এই ছবি দেখা গেল নয়াদিল্লির মথুরা রোড, ভরত নগর সহ একাধিক এলাকায়। একের পর এক বাসে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

বাসের আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দমকলবাহিনী। কিন্তু আন্দোলনকারীরা দমকলের একাধিক ইঞ্জিনে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন এক দমকলকর্মী। বাকিরা কোনও রকমে পালিয়ে প্রাণ বাচান বলে জানা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসের শেলও ফাটানো হয়। জানা যাচ্ছে, বেশ কিছু জায়গায় ইতিমধ্যে সিআরপিএফও নামানো হয়েছে।

অন্যদিকে, বিক্ষোভের জেরে দিল্লিতে দিল্লির মেট্রো পরিসেবাতেও প্রভাব পড়েছে। দিল্লি মেট্রো সূত্রে জানানো হয়েছে, সুখদেব বিহার, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, ওখলা বিহার এবং যশোলা বিহার এই চারটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনও ট্রেন এই চারটি স্টেশনে থামবে না বলেও জানানো হয় মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে অসম, ত্রিপুরা-সহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো। পরিস্থিতি ভয়ানক হয়ে ওঠে অসম ও ত্রিপুরায়। গুয়াহাটিতে অসংখ্য মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েন। প্রতিবাদ চলে সিএবি-র বিরুদ্ধে। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর, যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া মতো ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়েও।

এই আন্দোলনের আঁচ এসে পড়ে বাংলাতেও। টানা তিন দিন ধরে চলতে থাকা এই আন্দোলনে রবিবারও সকাল থেকে দেখা যায় রাজ্যের নতুন নতুন জায়গায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছড়াচ্ছে অশান্তিও। রবিবার থেকে মালদহ জেলার বিভিন্ন অংশে রেলপথ এবং জাতীয় সড়ক অবরোধের খবর এসেছে। একই রকম ভাবে বীরভূম জেলার মুরারইয়ের দুটি ব্লকেই বিক্ষোভ বাড়ছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

পর পর রেল এবং সড়ক পথ অবরোধ, বিক্ষোভ চলেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মল্লিকপুর, বারুইপুর, মহেশতলা, হটুগঞ্জে। অন্যদিকে এ দিন সকাল থেকে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে রাখা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগণায় আমাডাঙার সোনাডাঙা, ধানকল, কামদেবপুরে। এবারে সেই আন্দোলনের আঁচ এসে পড়ল দিল্লিতেও।