নয়াদিল্লি: চিনের আগ্রাসন থামেনি। লাগাতার সীমান্ত জুড়ে উস্কানি চালিয়ে যাচ্ছে চিন। ভারত সীমান্ত ঘেষে কখনও যুদ্ধবিমান ওড়াচ্ছে। তো কখনও আবার ড্রোন ওড়াচ্ছে বেজিং। মূলত ভারতীয় সেনার অবস্থান জানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চিনের সেনাবাহিনী। ফলে নিশ্চিন্ত হতে পারছে না ভারত।

তাই হতে হবে আরও বেশি সাবধান। আরও বেশি নজরদারি চালাতে হবে। তাই ড্রোনের ঘাঁটি তৈরি করতে চিন সীমান্তে ৬০ একর জমি নিচ্ছে ভারতীয় সেনা। কুমায়নের পান্তনগরে নেওয়া হচ্ছে সেই জমি। সেখানেই বানানো হবে বেস। এমনটাই সূত্রে জানা যাচ্ছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত নতুন নয়।

এর আগেও চিনের আগ্রাসন সহ্য করেছে। ভারতীয় ভুখন্ডকে নিজেদের বলে বারবার দাবি করছে। এই পরিস্থিতিতে বছরখানেক আগেই বিশাল এই ড্রোনের ঘাঁটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই বিষয়ে আরও কোনও বিস্তারিত তথ্য দিতে নারাজ জেলা প্রশাসন। চূড়ান্ত গোপন ভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।

বছরখানেক আগের একটি তথ্য অনুযায়ী, এটাই প্রথমবার উত্তরাখন্ডের থেকে ড্রোন অপারেট করা হবে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর ইউএভি বেস রয়েছে অসমের লালবাড়ি ও কুম্ভীগ্রামে। এক সেনা আধিকারিক সেই সময়ের এক সাক্ষাৎকারে জানিয়ে ছিলেন, উত্তরাখণ্ডে ইউএভি বেস তৈরি হলে চিনের নজরদারি চালানো আরও সহজ হবে।

বর্তমানে ভারতের কাছে দুই ধরনের ইউএভি রয়েছে- হেরন ও সার্চার মার্ক-২। হেরন ড্রোন যেহেতু অধিক উচ্চতায় ব্যবহার করা যায়, তাই এটি ব্যবহার করা হবে উত্তরাখণ্ডে। ২৪ ঘণ্টা ওড়ানো হবে সেটিকে। শুধু তাই নয়, ভারতের কাছে আছে কিছু মিনি ড্রোন। যেগুলি পাহাড়ের কোনায় লুকিয়ে থাকা শত্রুকে অনেক উঁচু থেকে খুঁজে দিতে সক্ষম হয়।

প্রসঙ্গত, ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে লাদাখে। পিছু হটে যাওয়ার কথা বলেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্রমশ সেনা সরঞ্জাম মজুত করছে চিনের লালফৌজ। পালটা প্রস্তুতি ভারতীয় শিবিরে।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ইন্দো-ভারত সীমান্তে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ছে চিনের শত শত নজরদারি ড্রোন। ভারতীয় বাহিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখার জন্য কৌশলগত এই সমস্ত ড্রোনগুলি চিনের সেনাবাহিনী ওড়াচ্ছে বলে খবর। এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক। কখনও কখনও এসব ড্রোন সীমান্ত পেরিয়ে পূর্ব-লাদাখের ভারতীয় অংশেও ঢুকে যাচ্ছে বলে দাবি।

গত কয়েক সপ্তাহে ভারতের অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার উপর উড়েছে এই ড্রোনগুলি। এমনটাই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তবে ড্রোন নজরদারিতে পিছিয়ে নেই ভারতও। লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) বরাবর সম্প্রতি নজরদারি শুরু করেছে। প্রকাশিত খবর মোতাবেক, ইজরায়েলের তৈরি বিশেষ ড্রোন ‘হেরন’ মোতায়েন করা হয়েছে ভারত। চিনের উপর পালটা নজরদারি চালানো হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহেই ভারতীয় সেনার ১৪ নম্বর কর্পস মোতায়েন করেছে হেরন মিডিয়াম অলটিটিউড লং এনডুরেন্স ড্রোন। সেই ড্রোন থেকে সীমান্তে নজর রাখা হচ্ছে। এ ড্রোন অন্তত ১০ কিলোমিটার উঁচুতে উড়তে পারে। টানা ২৪ ঘণ্টা চক্কর কাটতে পারে আকাশে।

এছাড়া, সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা সেনাবাহিনীর কাছে রয়েছে পোর্টেবল ড্রোন। একাধিক ‘স্পাইলাইট মিনি’ ড্রোন মজুদ রাখা হয়েছে। যা দিয়ে সহজেই ভারতীয়সেনাবাহিনী পার্বত্য এলাকায় শত্রুদের অবস্থান দেখে নিতে পারবে। ইজরায়েলের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই ড্রোনগুলে তৈরি হয় ২০১৮-তে। যে কোনো আবহাওয়াতেই এ ড্রোন উড়ানো সম্ভব। ১০ হাজার মিটার থেকে ৩০ হাজার ফুট উঁচু পর্যন্ত উড়তে পারে এ ড্রোন, তুলে আনতে পারে রিয়েল টাইম ভিডিও ফুটেজ।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV