দোহা: আপফ্রন্টে সুনীল ছেত্রী, আশিক কুর্নিয়ানকে ছাড়াই মঙ্গলবার এশিয়া সেরা কাতারকে তাদের মাটিতে রুখে দিয়েছে ভারতীয় দল। দুর্ভেদ্য রক্ষণ সঙ্গে ‘লাস্ট লাইন অফ ডিফেন্স’ গুরপ্রীতের বিশ্বস্ত দস্তানা। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ৪১ ধাপ এগিয়ে থাকা কাতারের বিরুদ্ধে এই ড্র ভারতীয় দলের কাছে নৈতিক জয়েরই সামিল। তবে কাতার ম্যাচ ভুলে গুরপ্রীতদের হেডস্যারের মগজে ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশ।

আগামী ১৫ অক্টোবর ভারতীয় ফুটবলের মক্কা কলকাতায় সেই ম্যাচে ইতিমধ্যেই যুবভারতী ভরিয়ে দেওয়ার ডাক দিয়েছেন সুনীলদের ক্রোট কোচ। পাশাপাশি শক্তিশালী কাতারকে রুখে দিয়ে স্টিমাচ জানাচ্ছেন, দলের ফিটনেস নিয়ে যারা সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন কাতারের বিরুদ্ধে ড্র তাদের মুখের উপর যোগ্য জবাব।

অসুস্থতার কারণে অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী মাঠে নামতে না পারায় মঙ্গলবার জাসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড ছিল ‘অর্জুন’ গুরপ্রীতের হাতে। আর তিনকাঠির নীচে কাতারের মুহুর্মুহু আক্রমণের সামনে যেন ‘গ্রেট ওয়াল অফ চাইনা’ হয়ে উঠলেন গুরপ্রীত। তাঁর অধিনায়কোচিত পারফরম্যান্সকে যোগ্য সহায়তা করলেন সন্দেশ ঝিঙ্গান, আদিল খান, রাহুল ভেকেরা। ফল যা হবার তাই হল। গত ম্যাচে আফগানদের ৬ গোল দিলেও ঘরের মাঠে ব্লু টাইগার্সদের ‘রক সলিড’ ডিফেন্স ভাঙতে ব্যর্থ  হল কাতার আক্রমণভাগ।

ডাগ আউটে বসে দলের এমন ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স চাক্ষুষ করে স্বাভাবিকভাবেই যারপরনাই খুশি ইগর স্টিমাচ। ওমানের বিরুদ্ধে হারের পর কাতারের বিরুদ্ধে পয়েন্ট সংগ্রহ করে ভারতীয় দলের লক্ষ্য এখন গ্রুপ-‘ই’ থেকে প্রথম দুইয়ে শেষ করা। আগামী রবিবার সেই লক্ষ্যে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন গুরপ্রীতরা। প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে গুরপ্রীতদের হেডস্যার জানাচ্ছেন, ‘কাতারের বিরুদ্ধে আমাদের এই পারফরম্যান্স সমর্থকদের পরের ম্যাচে মাঠে আসার আমন্ত্রণ। কলকাতার ফুটবল উন্মাদনা নিয়ে অনেক কথা শুনেছি। সেইমতোই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হাউসফুল যুবভারতীকে দেখতে চাই আমরা।’ একইসঙ্গে কলকাতার সমর্থকদের দলের দ্বাদশ ফুটবলার হওয়ার ডাক দিয়েছেন স্টিমাচ।

ক্রোয়েশিয়ান কোচের আরও সংযোজন, ‘দলের ফুটবলারদের ফিটনেস ঘাটতি নিয়ে অনেক কথা হচ্ছিল। আমার মনে হয় কাতারের বিরুদ্ধে আমরা নিজেদের ফিটনেসকে প্রমাণ করেছি। সারা ম্যাচে আমার ছেলেরা যে মনোসংযোগের সঙ্গে ডিফেন্স আগলেছে, তাতে তাদের ফিটনেস কোন পর্যায়ে রয়েছে তা সবাই দেখেছে।’ পাশাপাশি কোচ হিসেবে এশিয়া সেরাদের বিরুদ্ধে প্রথম পয়েন্ট সংগ্রহ করে বেশি খুশি স্টিমাচ সব কৃতিত্ব  দিচ্ছেন দলের ফুটবলারদেরই।