শেখর দুবে, কলকাতা: নীল রতন সরকার মেডিকেল কলেজ থেকে কয়েক মিটার দূরত্বে আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজ এবং হাসপাতাল৷ এনআরএসে রোগীর পরিবারের হাতে জুনিয়র ডাক্তারদের নিগ্রহের ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকেই কর্মবিরতিতে রয়েছেন এই ডেন্টাল কলেজের ডাক্তাররা৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি না পেলে এই কর্মবিরতি চলবে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা৷

আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজের হাউসস্টাফ এবং এই কলেজে এবিভিপি ইউনিটের ডক্টর সম্রাট বলেন, ‘‘আমরা কাল থেকে কর্মবিরতিতে রয়েছি৷ কিন্তু এমার্জেমন্সি পরিষেবা খোলা রয়েছে৷ তবে ওপিডি বন্ধ থাকছে৷ পাশেই এনআরএস মেডিকেলে আমাদের বন্ধু ও সহকর্মী ডাক্তাররা গুরুত্বর আহত হয়েছেন৷ তার প্রতিবাদ চলছে৷ এনআরএসের ডাক্তাররা আমাদের প্রয়োজনে সাহায্য করে থাকেন৷ তাছাড়া আমরা সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের সুরক্ষার ও দোষীদের শাস্তির প্রতিশ্রুতি না দিলে আমরা এই অনশন চালিয়ে যাবো৷’’

প্রসঙ্গত, সোমবার এনআরএস মেডিকেল কলেজে এক রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ডাক্তার এবং চিকিৎসাশাস্ত্রের পড়ুয়াদের উপর চড়াও হন রোগীর পরিবার৷ অভিযোগ পরে বেশি সংখ্যায় লোক নিয়ে এসে ডাক্তারি ছাত্রদের উপর হামলা চালানো হয়৷ এতে গুরুত্বর যখম হয়ে আইসিইউতে ভরতি রয়েছেন এক জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায়৷ সোশ্যাল মিডিয়াতে পরিবহর একাধিক ছবি ছড়িয়েছে৷ যেখানে আহত পরিবহর মাথার এক্সরে রিপোর্টের একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে মাথার খুলির সামনের দিকের অংশ ভেঙে ভেতরে ঢুকে গেছে৷ এছাডা়ও আরও বেশ কয়েকজন জুনিয়র ডাক্তার এবং ডাক্তারি পড়ুয়া আহত হয়েছেন গতকাল এমনটাই সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে৷ এই ঘটনার প্রতিবাদেই মঙ্গলবার রাজ্যের বেশ কয়েকটি মেডিকেল কলেজ এবং গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে অন্দোলনে নেমেছেন ডাক্তাররা৷

কর্মবিরতিতে থাকা ডাক্তরদের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করুন৷ এবং উনি প্রতিশ্রুতি দিন এরকম ঘটনা আর ঘটবে না৷ সেই দাবি মেনে মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করলেন বটে তবে এসএসকেএমে এসে ডাক্তারদের কড়া বার্তা শোনাতে ছাড়লেন না৷ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যে ডাক্তাররা মার খেয়েছেন সেটা ঠিক নয়৷ কিন্তু রোগীদের পরিষেবা দিতে হবে৷ পরিষেবা না দিলে ডাক্তার হওয়া যায় না। কয়েকজন নাটক করছে। চার ঘন্টার মধ্যে কাজ শুরু না করলে হস্টেল খালি করে দিন৷ যারা কাজ করবে না তাদের সঙ্গে নেই সরকার৷ এখানেও বহিরাগতরা এসে গন্ডোগোল পাকানোর চেষ্টা করছে৷ যত নেতা আছেন ধর্ণায় আসুন৷ কাজে যোগ না দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, বলেও হুশিয়ারি দেন মমতা৷ এরপর একঘন্টার মধ্যেই পিছু হঠেন এসএসকেএমের ডাক্তাররা, খুলে দেওয়া হয় এমার্জেন্সি পরিষেবা৷