বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র হল শার্লক হোমস। এই গোয়েন্দা চরিত্রটির স্রষ্টা হলেন স্যার আর্থার কোনান ডয়েল ৷ আজ তাঁর জন্মদিন৷ ১৮৫৯ সালের ২২ মে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। গোয়ন্দা গল্পের জন্য মূলত তিনি জনপ্রিয় হলেও বহুমুখি প্রতিভাধর এই মানুষটি যেমন কল্পবিজ্ঞানের গল্প, নাটক, প্রেমের উপন্যাস, কবিতা, ননফিকশন, ঐতিহাসিক উপন্যাস ইত্যাদি রচনা করেন তেমনই আবার তিনি ছিলেন তিমি শিকারী, ক্রীড়াবিদ ও যুদ্ধ সাংবাদিক। তিনি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন। পরে লন্ডনে স্থায়ী হন।

শার্লক হোমসকে নিয়ে কোনান ডয়েল মোট ৪টি উপন্যাস এবং ৫৬টি ছোটগল্প লিখেছিলেন। তার প্রথম সাফল্য ছিল ‘আ স্টাডি ইন স্কারলেট’। ১৮৮৭ সালে বিটনস ক্রিসমাস এ্যানুয়ালে প্রকাশিত হয়। প্রথমে এই উপন্যাসে হোমসের নাম ছিল শেরিনফোর্ড হোমস। পরে তা পরিবর্তন করে শার্লক হোমস করা হয়। হোমসের পুরো নাম উইলিয়াম শার্লক স্কট হোমস। বাবা সাইগার হোমস ও মা ভায়োলেট শেরিন ফোর্ড। অবিবাহিত হোমসের ঠিকানা, ২২১/বি বেকার স্ট্রিট, লন্ডন। হোমস যুক্তির তড়িৎ ব্যবহার, ছদ্মবেশ ধারণ ক্ষমতা ও ফরেনসিক বিজ্ঞানে পারদর্শিতা।

গোয়েন্দা-কাহিনীগুলোই তাকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছিল। আবার এক সময় একঘেয়েমির কারণে ডয়েল ‘হিজ লাস্ট বো’ গল্পে হোম্‌সকে মেরে ফেলেন। পরে পাঠকের দাবির মুখে চরিত্রটিকে ফিরিয়ে আনেন। রহস্য-রোমাঞ্চ গল্পে ডয়েলের অনুপ্রেরণা ছিলেন এডগার এলেন পো, জুলিস ভেরনি ও রবার্ট লুইস স্টিভেনসন। অন্য দিকে তিনি প্রভাবিত করেছেন আগাথা ক্রিস্টিসহ পরবর্তীকালের অনেক গোয়ন্দা কাহিনি লেখককে। গত একশতকে চলচ্চিত্র ও নাটকে বারবার চিত্রায়িত হয়েছে শার্লক হোমস। সাম্প্রতিক সময়ে বিবিসি নির্মিত ‘শার্লক’ সিরিয়ালটি গোয়েন্দা কাহিনী ভক্তদের মাঝে ঝড় তোলে। এ ছাড়া বিশ্বের বেশির ভাগ ভাষায় শার্লক হোমসের গল্প ও উপন্যাস অনুদিত হয়েছে।

বাস্তব জীবনেও দু-দুবার গোয়েন্দাগিরি করে অন্যায়ভাবে দোষী-সাব্যস্ত ব্যক্তিদের নির্দোষ প্রমাণ করতে সফল হন ডয়েল। ১৯৩০ সালের ৭ জুলাই ইংল্যান্ডের ইস্ট সাসেক্সে মৃত্যুবরণ করেন আর্থার কোনান ডয়েল।