দুশানবে: কৃত্রিম টার্ফ, সঙ্গে দুশানবের হিমাঙ্কের কাছাকাছি তাপমাত্রা। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এই দুই মাথাব্যথা নিয়েই বৃহস্পতিবার মাঠে নেমেছিল ব্লু টাইগাররা। ইগর স্টিম্যাচ ম্যাচের আগে বলেছিলেন জয় খুব একটা সহজ হবে না। বাস্তবে হলও তাই। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ফের ড্র সুনীলের ভারতের। কাতার, বাংলাদেশের পর এবার আফগানিস্তান। যুবভারতীতে আদিল খানের পর দুশানবেতে এদিন অতিরিক্ত সময় ভারতের মান বাঁচালেন সেইমিনলেন ডোংগেল। চতুর্থ ম্যাচেও জয় অধরা থাকায় সুনীলদের পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা প্রায় শেষ বললেই চলে।

তবে কৃত্রিম টার্ফ কিংবা স্থানীয় আবহাওয়ার বাধা উপেক্ষা করে এদিন কার্যত সারা ম্যাচেই পজেশন নির্ভর ফুটবল উপহার দিল স্টিম্যাচের ভারত। কিন্তু তুলনায় সারা ম্যাচে ইতিবাচক সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ তাঁরা। বর্তমান ভারতীয় দল বড় বেশি সেটপিস নির্ভর। তাই দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়েও গোলের জন্য হাপিত্যেস করতে হচ্ছিল সেটপিসের উপরেই। শেষমেষ সেই সেটপিসই এক পয়েন্ট এনে দিন ব্লু টাইগারদের।

বাংলাদেশ ম্যাচের একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনে আফগানদের বিরুদ্ধে দল সাজিয়েছিলেন স্টিম্যাচ। আনাসের পরিবর্তে প্রীতম, থাপার পরিবর্তে প্রণয়, মনবীরের পরিবর্তে ব্র্যান্ডনকে খেলিয়ে শুরু থেকেই সেটপিস নির্ভর হওয়ার বার্তা দেন স্টিম্যাচ। বল নিজেদের দখলে রেখে খেলার শুরু করলেও ভারতীয় দল প্রথম কর্নার পায় ম্যাচের ৩৫ মিনিটে। তখন ম্যাচে কিছুটা জাঁকিয়ে বসেছেন হারুন আমিরিরা। প্রথমার্ধ জুড়ে সেই অর্থে আফগান দুর্গের শেষ প্রহরীকে পরীক্ষার মুখে ফেলতেও ব্যর্থ হয় ভারতের আক্রমণভাগ। উল্টোদিকে দু-একবার কড়া নাড়ার পর ভারতীয় রক্ষণের ফাঁক খুজে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময় কাজের কাজ করে যায় আফগানিস্তান।

প্রবল জনসমর্থনের সামনে ডান-প্রান্তিক আক্রমণ থেকে ডেডলক খোলে আফগানিস্তান। ডেভিড নাজেমের স্কোয়্যার পাস থেকে স্কোরলাইন ১-০ করে জেলফাগার নাজারি। লেফট ব্যাক মন্দার রাও দেশাইয়ের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট স্টিম্যাচ দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত হিসেবে আক্রমণভাগে আনেন ফারুখ চৌধুরিকে। ফলস্বরূপ প্রথমার্ধের চেয়ে দ্বিতীয়ার্ধে বিপক্ষ গোলরক্ষককে অনেক বেশি ব্যতিব্যস্ত রাখেন সুনীল, ব্র্যান্ডন, উদান্তারা। এরইমধ্যে ৬৭ মিনিটে ব্র্যান্ডনের কর্নার থেকে সুনীলের হেড ক্রসবারে প্রতিহত হয়। তার আগে কোটালের ক্রস থেকেও গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন বেঙ্গালুরু এফসি স্ট্রাইকার। তবে সেযাত্রায় পতন রোধ করেন আফগান গোলরক্ষক আজিজি।

গোলের লক্ষ্যে মরিয়া স্টিম্যাচ প্রীতম কোটালকে তুলে আক্রমণভাগে এরপর নিয়ে আসেন সেইমিনলেনকে। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে ভারতের মানরক্ষা করেন সেই লেনই। সেটপিস বিশেষজ্ঞ ব্র্যান্ডনের কর্নার থেকে এফসি গোয়া স্ট্রাইকারের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলেই এক পয়েন্ট নিশ্চিত হয় ভারতের। এই ড্রয়ের ফলে বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জনের দ্বিতীয় রাউন্ডের চতুর্থ ম্যাচ পর ভারতের ঝুলিতে মাত্র ৩ পয়েন্ট। আগামী ১৯ নভেম্বর মাসকাটে ওমানের মুখোমুখি তাঁরা।