বার্মিংহ্যাম: দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে চলতি বিশ্বকাপের শেষ তিনটি ম্যাচে অন্তত পাঁচটি সর্বকালীন রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা ছিল। ভারত ও অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় আপাতত একটি রেকর্ড এবারের মত অক্ষুন্ন থেকে যায়। আরও ২টি ফাইনালের আগে পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকে। তবে এজবাস্টনে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভেঙে যায় একযোগে বিশ্বকাপের ২টি সর্বকালীন রেকর্ড।

অজি তারকা মিচেল স্টার্ক ভেঙে দেন স্বদেশীয় প্রাক্তনীর বিশ্বরেকর্ড। ব্রিটিশ তারকা জো রুট ছিনিয়ে নেন প্রাক্তন আজি দলনায়কের কাছ থেকে আরও একটি নজির। অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক ভেঙে দেন কিংবদন্তি গ্লেন ম্যাকগ্রার ১২ বছর আগের রেকর্ড। ২০০৭ বিশ্বকাপে মোট ২৬টি উইকেট নিয়েছিলেন গ্লেন ম্যাকগ্রা। এবার লিগের ম্যাচগুলিতে সাকুল্যে ২৬টি উইকেট নিয়ে ম্যাকগ্রাকে ছুঁয়ে ফেলেছিলেন স্টার্ক। পূর্বসূরীকে টপকে যেতে তাঁর দরকার ছিল আরও একটি মাত্র উইকেট। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে হেরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও নজির গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় উইকেটটি তুলে নেন স্টার্ক।

ইনিংসের ১৮ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ইংল্যান্ড ওপেনার জনি বেয়ারস্টোকে এলবিডব্লুর ফাঁদে জড়িয়ে ইতিহাস গড়েন অজি স্পিড স্টার। চলতি বিশ্বকাপে বেয়ারস্টো স্টার্কের ২৭তম শিকার। অর্থাৎ একটি বিশ্বকাপে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড এখন এককভাবে মিচেল স্টার্ক এর পকেটে।

দ্বিতীয়ত, ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্যাপ্টেন জো রুট আদিল রশিদের বলে প্যাট কামিন্সের ক্যাচ ধরার সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসে জায়গা করে নেন। চলতি বিশ্বকাপের ১২ নম্বর ক্যাচ ধরে রুট একটি বিশ্বকাপে সব থেকে বেশি ক্যাচ তালুবন্দী করার বিশ্বরেকর্ড গড়েন। উইকেটকিপার ছাড়া কোনও ফিল্ডারের বিশ্বকাপের একই সংস্করণে এতগুলি ক্যাচ ধরার নজির নেই। আগের রেকর্ড ছিল প্রাক্তন অজি অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের নামে। ২০০৩ বিশ্বকাপে তিনি মোট ১১টি ক্যাচ ধরেছিলেন।

উইকেটকিপার হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বকালীন রেকর্ড গড়ার হাতছানি ছিল অস্ট্রেলিয়ার অ্যালেক্স ক্যারির সামনে। তবে তিনি অল্পের জন্য হাতছাড়া করেন সেই সুযোগ। ২০০৩ বিশ্বকাপেই অ্যাডাম গিলক্রিস্ট সব মিলিয়ে মোট ২১টি শিকার ধরেছিলেন। এটি এখনও পর্যন্ত কোনও উইকেটকিপারের একটি বিশ্বকাপে সব থেকে বেশি শিকার ধরার রেকর্ড। লিগের ম্যাচগুলিতে ক্যারি মোট ১৯টি শিকার ধরেছিলেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে আরও একটি ক্যাচ ধরার পর সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ (১৮টি ক্যাচ ও ২টি স্ট্যাম্প)। তবে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় এবারের মত রেকর্ড গড়া হচ্ছে না তাঁর। সুযোগ রয়েছে কিউয়ি উইকেটকিপার টম লাথামের সামনে। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর শিকারের সংখ্যা ১৮। ফাইনালে অন্তত ৩টি শিকার ধরতে পারলে তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন গিলক্রিস্টকে। গিলিকে টপকে বিশ্বরেকর্ড এককভাবে নিজের দখলে নেওয়ার জন্য লাথামের প্রয়োজন ক্যাচ ও স্ট্যাম্প মিলিয়ে ৪টি শিকার।

ভারতের তারকা ওপেনার রোহিত শর্মার সামনে হাতছানি ছিল বিশ্বকাপের দুটি সর্বকালীন রেকর্ড গড়ার। প্রথমত, আরেকটি সেঞ্চুরি করলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব থেকে বেশি শতরান করার রেকর্ড এককভাবে নিজের নামে করতে পারতেন রোহিত। এছাড়া ২০০৩ সালে সচিনের করা ৬৭৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা টপকে একটি বিশ্বকাপে সব থেকে বেশি রান করার নজির গড়তে পারতেন তিনি। সুযোগ ছিল ডেভিড ওয়ার্নারের সামনেও। তিনিও ব্যর্থ। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার আগে রোহিত ও ওয়ার্নার থেমে যান যথাক্রমে ৬৪৮ ও ৬৪৭ রানে। ফাইনালে সচিনকে টপকে যাওয়ার হাতছানি থাকছে কিউয়ি অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন (৫৪৮) এবং ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান জো রুটের (৫৪৯) সামনে।