নয়াদিল্লি: তাদের হামলার নিশানায় কখনই সংবাদমাধ্যম ছিল না৷ প্রেস বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল মাওবাদীরা৷ পাশাপাশি, সাংবাদিকদের অনুরোধ করা হয়েছে গুলির লড়াই চলাকালীন কোনও ভাবেই পুলিশের দলের সঙ্গে তাঁরা না থাকেন৷ নয়তো গুলি লেগে দুর্ঘটনা ঘটনার আশঙ্কা থাকে৷ কিন্তু কোনওভাবেই সংবাদমাধ্যমের কোনও কর্মীকে ইচ্ছাকৃত ভাবে গুলি করতে চায়নি মাওবাদীরা৷

সিপিআই(মাওবাদী)-র পক্ষ থেকে শুক্রবার সকালে একটি প্রেস বিবৃতি পেশ করা হয়৷ দু পাতার হাতে লেখা সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিদিন গ্রামের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে প্রশাসনের হাতে৷ প্রতিদিন স্থানীয় মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে৷ তাই হাতে অস্ত্র তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন মাওবাদীরা৷

এই চিঠিতে সই রয়েছে সিপিআই (মাওবাদী)-র দরভা ডিভিশন কমিটির প্রধান সাইনাথের৷ চিঠিতে আরও বলা হয়েছে মাওবাদীদের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে নিরীহ গ্রামবাসীদের পুলিশি হেনস্থা করা, ভুয়ো মামলায় ফাঁসানোর হার বেড়ে গিয়েছে৷ এই সব অত্যাচার এখন পুলিশের কাছে ছোট সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এরই প্রতিবাদে নেমে পুলিশের বিরুদ্ধে আক্রমণ করছে মাওবাদীরা৷ এই আন্দোলন জারি থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে৷ তবে পুলিশের সঙ্গে শত্রুতা থাকলেও, সংবাদমাধ্যম কোনও ভাবেই এই শত্রুতার মধ্যে পড়ছে না৷ কারণ সাংবাদিকরা তাঁদের প্রতিপক্ষ নন বলে সাফ জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে৷

দান্তেওয়াড়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে দুরদর্শনের ক্যামেরাম্যান ওই সংঘর্ষের সময় এলাকায় ছিলেন, সে খবর মাওবাদীদের কাছে ছিল না৷ মাওবাদীদের গুলি চালাতে বাধ্য করেছিল পুলিশ৷ কোনওভাবেই মাওবাদীরা সংবাদমাধ্যমের কোনও কর্মীকে গুলি করতে চায়নি৷

তবে মাওবাদীদের এই চিঠি ও বক্তব্য কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন দান্তেওয়াড়ার পুলিশ সুপার অভিষেক পল্লব৷ তাঁর কথায় সংঘর্ষের ছবি তুলছিলেন বলেই ক্যামেরাম্যানকে খুন করেছে মাওবাদীরা৷ যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে এই ঘটনা না ঘটে থাকে, তবে কেন ক্যামেরা লুঠ করা হল? মাওবাদীরা তাদের বিরুদ্ধের সব প্রমাণ নষ্ট করতে চেয়েছিল বলেই দুরদর্শনের ক্যামেরাম্যানকে খুন করা হয়৷

মঙ্গলবার দান্তেওয়াড়ায় মাওবাদী হামলায় প্রাণ হারান মোট তিনজন৷ যার মধ্যে একজন দূরদর্শনের ক্যামেরাম্যান এবং অন্য ২জন পুলিশ আধিকারিক৷ ওই ক্যামেরাম্যানের নাম অচ্যুতানন্দ সাহু৷

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে আরানপুর এলাকায় হামলা চালায় মাওবাদীরা৷ উপস্থিত ক্যামেরাম্যানদের মধ্যে একজনের ক্যামেরা কেড়ে নেয় তারা৷ তবে মাও গুলিতে প্রাণ হারায় তিন জন৷