নয়াদিল্লি: ‘আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতা, মানবাধিকার শেখাবেন না’, কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের নিশানায় এবার বামপন্থীদের একাংশ। দিল্লির সংঘর্ষ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে বামেরা। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ব্যর্থতার জেরেই দিল্লি অশান্ত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাম নেতারা। সেই ইস্যুতেই এবার বামেদের পাল্টা একহাত নিলেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী।

রবিশঙ্কর প্রসাদের কথায়, ‘মানবিক অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতার কথা উদারপন্থী বামপন্থীদের মুখে শোভা পায় না’। বামেদের বার্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা ও মানবিক অধিকার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে পাঠ দিতে আসবেন না। যাঁরা সন্ত্রাসবাদী হামলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের পাশে কোনওদিনই বাম নেতাদের দাঁড়াতে দেখা যায়নি।’

এখানেই থেমে না থেকে বামেদের কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীর তোপ, ‘উদারপন্থী বামপন্থী বন্ধুদের বলতে চাই, আসুন আমাদের সঙ্গে ভোটে লড়ে আমাদের হারান। ভোটে জিতে নিজেরা সরকার গড়ুন। আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতা ও মানবাধিকারের পাঠ দেবেন না। কোনওদিনই কি আপনারা সন্ত্রাসবাদী হামলার বিরুদ্ধে বা সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন?’।

সিএএ সমর্থনকারী ও বিরোধীদের সংঘর্ষে একটানা ৩ দিন ধরে উত্তপ্ত ছিল দিল্লি। উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ, মৌজপুর, চাঁদবাগ, সিলমপুর-সহ একাধিক এলাকায় হিংসার আগুন জ্বলে ওঠে। একের অপরের উপর লাঠি, রড নিয়ে চড়াও হয় দু’পক্ষ।

একাধিক এলাকায় ওঠে গুলি চালানোর অভিযোগ। দিল্লির সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তিনশোর কাছাকাছি মানুষ আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভরতি রয়েছেন। প্রায় ৭০ জনেরও বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতার জেরেই দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি বলে বামেদের পাশাপাশি অভিযোগে সরব হয়েছে কংগ্রেসও। দিল্লির সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যর্থতার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগও দাবি করেছেন সনিয়া গান্ধী-মনমোহন সিংরা।

ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করেছেন সনিয়া গান্ধী, মনমোহন সিং, পি চিদম্বরম-সহ কংগ্রেস প্রতিনিধি দল। প্রধানমন্ত্রীকে রাজধর্ম পালন করার পাঠ দিতে রাষ্ট্রপতিকে আবেদন জানিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।