নয়াদিল্লি : লোকসভা বা রাজ্যসভায় আটকানো যায় নি। এবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে আবেদন জানাল ১৮টি রাজনৈতিক দল। রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ বিতর্কিত বিলে সই করলেই সেটি আইনে পরিণত হবে। সেই প্রক্রিয়া আটকাতেই আবেদন জানাল ওই ১৮টি দল। বিতর্কিত কৃষি বিলটির পাশ যাতে কোনওভাবেই না হয় তার জন্য সচেষ্ট বিরোধীরা।

কৃষি বিলটিকে গণতন্ত্রের হত্যাকারী বলে ব্যাখ্যা করে বিরোধীরা জানায়, কোনও দলকে এই বিল সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন করতেই দেওয়া হয়নি। যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের বিরোধী। তাই ১৮টি বিরোধী দল রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছে, যাতে কোনওভাবেই এই বিলে সই না করা হয়।

রাষ্ট্রপতি কোবিন্দের কাছে চিঠি লিখে বিরোধীরা জানিয়েছে বিভিন্ন মতাদর্শের রাজনৈতিক দল হলেও, এই একটি বিষয়ে একমত বিরোধীরা। দ্রুত যেন কোনও সিদ্ধান্ত বিলটির বিষয়ে না নেওয়া হয়। গণতন্ত্রকে হত্যা করার জন্য এই বিলটি তৈরি করা হয়েছে। সেই হত্যাকান্ড বন্ধ করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতি যাতে বিলে সই না করেন, তার আর্জি জানিয়ে ১৮টি দল লিখেছে নৈতিক ও সাংবিধানিক পথে হেঁটে বিলটি সই করা উচিত নয়। এই ধরণের কালা আইন দেশকে সর্বনাশের পথে ঠেলে দেবে। উল্লেখ্য, বিরোধীদের তুমুল হইচইয়ের মধ্যেই রবিবার রাজ্যসভায় পাস হয়ে গিয়েছে কৃষি বিল। কৃষি বিল নিয়ে তুমুল আপত্তি ছিল বিরোধীদের। রবিবার অধিবেশন কক্ষে বিলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বিরোধী তৃণমূল থেকে শুরু করে অন্য দলের সাংসদরা।

তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন রুল বুক ছিঁড়েছেন ও ডেপুটি চেয়াম্যানের মাইক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ। ‘শাস্তি’ হিসেবে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন-সহ মোট ৮ বিরোধী সাংসদকে বরখাস্ত করেছেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু। এই ঘটনার কড়া নিন্দা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন আট সাংসদকে বরখাস্ত করার প্রতিবাদে সংসদের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন বিরোধী একাধিক দলের সাংসদরা। কংগ্রেস, তৃণমূল, আপ, বাম-সহ বিভিন্ন দলের সাংসদরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ শুরু করেন। আট সাংসদকে বরখাস্ত করে স্বৈরাচরী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার, এমনই অভিযোগ বিরোধীদের।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।