নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনার গোপন তথ্য জানতে মরিয়া পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। এবার তাদের টার্গেটে ভারতীয় সেনার আধিকারিক এবং তাঁদের পরিবারবর্গ। বন্ধুর ছদ্মবেশে সেনা অফিসার, তাঁদের নিকট আত্মীয় ও পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা শুরু করেছে আইএসআই।

সেক্ষেত্রে তারা হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড বা সোশ্যাল মিডিয়াকে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপকে তারা এক্ষেত্রে নিজেদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। তাই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই সেনা আধিকারিকদের সতর্ক করা হয়েছে। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেনা আধিকারিকরা যেন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কোন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির সঙ্গে বেশি কথাবার্তা না বলেন। তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও যেন এমন নির্দেশ মেনে চলেন বলা হয়েছে এমনটাও। কোনও তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রেও তারা যেন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার না করেন বলা হয়েছে এমনটাও।

গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেনারা জানিয়েছে, বন্ধুত্বের টোপ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় সেনা আধিকারিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছে আইএসআই সদস্যরা। সরাসরি বন্ধুত্ব পাতানোর পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেনা আধিকারিকদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে পাক গুপ্তচর সংস্থার সদস্যরা। তাঁদের উদ্দেশ্য, যেকোন উপায়ে সেনা ঘাঁটি সম্পর্কিত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া।

জানা গিয়েছে, সেনার ডিজিএমও-র তরফে ইতিমধ্যেই আধিকারিকদের মধ্যে এই সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, তাঁরা যেন সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও ম্যাপ, সেনার ব্যবহার্য কোন অস্ত্রের ছবি বা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করেন। এমনকি তাদের এও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কোন গোপন তথ্য চালাচালি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। এছাড়া সেনা অফিসারদের পরিবারের সদস্যদেরও এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এড়িয়ে চলতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে বহুবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘হানিট্র্যাপে’র মাধ্যমে সেনাকে টার্গেট করেছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। গত জুন মাসেই এমন একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের খোঁজ পান ভারতীয় গোয়েন্দা।