তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: করোনা মানেই আতঙ্ক নয়। অযথা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কতা বিধি মেনে চললেই জয় করা যায় মারণ এই রোগকে।

করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে বাড়ি ফিরে গ্রামবাসীদের এই ‘মারণ রোগ’ সম্পর্কে সচেতন করতে পথে নেমেছেন বছর বাইশের রফিক শেখ।

লকডাউনের মধ্যেই ২৬ মে মুম্বই থেকে বাঁকুড়ার পাত্রসায়রের শেওড়াবনি গ্রামে ফিরে থাকতে শুরু করেন এক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে। পর দিনই লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য দফতর। পরে তাঁর কোভিড পজিটিভ ধরা পড়ায় নিয়ে যাওয়া হয় ওন্দা কোভিড হাসপাতালে। সেখানে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ৯ জুন বাড়ি ফিরে ১৪ দিন হোমকোয়ারেন্টাইনে থাকার পর এই রোগ সম্পর্কে জন সচেতনতা করতে গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন তিনি।

কিন্তু ওই মাঝের সময়টা মোটেই সুখের ছিলনা রফিক শেখ ও তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে। তার বাবা বাবুলাল শেখ বলেন, প্রথম দিকে মানুষ ভুল বুঝেছিল। অনেকেই নানান কথা বলতো। ছেলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর মানুষের ভুল ভেঙ্গেছে। এখন সবাই আগের মতো আচরণ করে। আর ছেলেই তো এখন গ্রামের মানুষকে সচেতন করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এটাও অন্যতম ভালো লাগার বিষয় বলে তিনি জানান।

রফিক শেখ নিজে এবিষয়ে বলেন, করোনা নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনো নানান ধরণের আতঙ্ক রয়েছে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলেই এই রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। এবিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে মানুষকে যথাসম্ভব বোঝানোর চেষ্টা তিনি করছেন বলে জানান।

পাত্রসায়র পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য সরবরাহ দফতরের কর্মাধ্যক্ষ শাজাহান শেখ বলেন, ওই যুবকের কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট আসার পর গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তার পরিবারকে ‘একঘরে’ করে রাখা হয়েছিল স্বীকার করে তিনি বলেন, এখন সব স্বাভাবিক। ও নিজেই এখন গ্রামের মানুষকে এই রোগ সম্পর্কে সচেতন করছে বলে তিনি জানান।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ